কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের জেরে বাংলাদেশ অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকায় নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত কিশোররা হলেন—কানজরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তোফায়েলের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (১৩) এবং একই এলাকার মো. ইউনুছের ছেলে ওবায়দ উল্লাহ (১৫)। তারা দুজনই বাংলাদেশি নাগরিক।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ড্রোন হামলা ও তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি এসে নদীর এপারে অবস্থানরত দুই কিশোরের শরীরে লাগে।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি বিজিবির কড়া নজরদারিতে রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও সীমান্ত এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা নামে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হয়। পরদিন ১২ জানুয়ারি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক স্থানীয় যুবকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই দিনে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের পর বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ৫৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে বিজিবি।