শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা শুরুতেই নির্ধারিত চেয়ারে বসেন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দেরিতে পৌঁছানোয় তার সমর্থকরা অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় চেয়ারে বসা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংবাদ সংগ্রহকালে দুইজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, জামায়াতের উগ্রপন্থী সমর্থকরাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তাদের হামলায় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। তবে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।