মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২২ এএম

গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে গুলি করে হত্যা

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে গুলি করে হত্যা
সাইফ আল-ইসলাম - ছবি: সংগ্রহীত

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি পশ্চিম লিবিয়ার একটি শহরে নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে জিনতান শহরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দশক ধরে সাইফ আল-ইসলাম জিনতানেই অবস্থান করছিলেন। আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে তার পিতার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান এবং পরবর্তী সময়ে লিবিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন।

পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং কয়েকটি লিবীয় গণমাধ্যম সাইফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণও জানা যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

একসময় কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে না থাকলেও তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ায় সাইফ আল-ইসলামকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনেকেই তাকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখতেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে শিক্ষিত, সাবলীল ইংরেজিভাষী সাইফ একসময় পশ্চিমা বিশ্বে লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ২০১১ সালের অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় তিনি বন্দিত্ব ও অজ্ঞাতবাসে কাটান। মুক্তির পর ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রচারণা শুরু করলেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাইফ আল-ইসলাম তার পিতার শাসনামলে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেন। এর মধ্যে লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র পরিত্যাগ এবং ১৯৮৮ সালের লকারবি বিমান বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আলোচনায় তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।