গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানও জানিয়েছে, তাদের বাহিনী পাল্টা জবাব দিয়েছে।
আফগানিস্তানের একটি সামরিক কোরের গণমাধ্যম শাখা এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত থেকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ লড়াই শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক উসকানি ও সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের ওপারে পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সীমান্ত ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত। তবে আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না।
মুজাহিদ দাবি করেন, আফগান বাহিনীর অভিযানে ‘অসংখ্য’ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের ১৫টি চৌকি দখল করা হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান বাহিনীর গুলির জবাবে পাকিস্তানি সেনারা তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররাম ও বাজাউর এলাকায় তালেবান অবস্থানে হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগান বাহিনীর উল্লেখযোগ্য হতাহতের কথাও বলা হয়েছে এবং একাধিক চৌকি ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে।
তবে পূর্বাঞ্চলীয় আফগান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মাদি বলেন, আফগান পক্ষের এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য নেই।
গত রোববার পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৭০ যোদ্ধা নিহতের দাবি করে। আফগানিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক লোকজন প্রাণ হারিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত অক্টোবর মাসে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয় পক্ষ মিলিয়ে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ স্থল সীমান্তপথ বন্ধ রয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আফগানিস্তান কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ নাকচ করেছে।