মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০১ এএম

হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তির আশা অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তির আশা অনিশ্চিত
ইয়েমেনের মুরাদ উপকূলের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ তিহামাহছবি: রয়টার্স

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা যখন অনিশ্চিত, তখন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে না।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি লেবানন, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে দীর্ঘ সময় নৌপথটি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন সাধারণত ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।

ট্রাম্পের নতুন দাবি

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের ওপর নতুন একটি শর্ত আরোপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত পাঁচ দশকের বিভিন্ন যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কখনো সংঘাত আরও তীব্র করার হুমকি, আবার কখনো দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান অনিশ্চয়তা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা চলছে এবং ইরানিরা আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলী।

সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদিও নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এবং নির্দেশ পেলে শত্রু ভূখণ্ডে অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরির কাজ করছে আইআরজিসি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণে ইতোমধ্যে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও। মার্কিন স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এর পাশাপাশি বাব আল-মানদেব ও হরমুজ—মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেই জাহাজ চলাচল কমে গেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে বড় চাপ তৈরি হতে পারে। 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।