মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে ই-রিকশার নিবন্ধন নয়

জাতীয়
Sub Editor
সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে ই-রিকশার নিবন্ধন নয়
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ও অটোরিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করার বাধ্যবাধকতা রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে সংশ্লিষ্ট রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন করা হবে না। একই সঙ্গে আইন ভঙ্গের জন্য জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে।

সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে এক পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার আওতায় নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করা।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আইন পাস হয়েছে। সেই আইনের ভিত্তিতেই বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এতে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি, ব্যাটারি চার্জের পদ্ধতিসহ বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হবে।

ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বুয়েট অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগ থেকে এই সনদ নিতে হবে। পরে ট্রাফিক পুলিশের প্রতিস্বাক্ষরসহ সনদটি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে।

ঢাকায় আট জোনে ই-রিকশা

রাজধানীতে ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের রিকশার রং আলাদা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এক জোনের রিকশা যাতে অন্য জোনে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। কোন সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে এবং কোন সড়কে পারবে না, তাও বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে।

আইন অমান্য বা নির্ধারিত এলাকার বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে জরিমানা করা হবে। এ ব্যবস্থার তদারকিতে ট্রাফিক পুলিশ যুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

ই-রিকশা শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা সহজ করতে নিবন্ধনের সময় প্রতিটি রিকশায় কিউআর কোড দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক বৈঠকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর বিধিমালা কার্যকর করা হবে। শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশেই একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং সব উপজেলায় ই-রিকশাকে নিবন্ধন, আইন ও নবায়নের আওতায় আনা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।