রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান।
বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার মতে, বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা ও সমন্বয় করা হলে আরও কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব ছিল।
শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে তারও দায়িত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
বুধবার সকাল ১০টার পর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, যাদের ব্যবসা উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাই এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা হলে বিষয়টি আরও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
শফিকুর রহমানের মতে, সংঘাতের পরিবর্তে এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক থাকে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অযথা ক্ষতির মুখে না পড়েন। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মিরপুরের ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চাঁদা নিয়ে সেখানে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ধরনের সমস্যার সমাধানে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন শফিকুর রহমান। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার কথাও বলেন তিনি।
সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সমস্যারই সমাধানের পথ রয়েছে। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, বাস্তবসম্মত ও মানবিক এবং কাউকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়।
ফেসবুক পোস্টের শেষ দিকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ কোনো জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন।