ওকিনাওয়ায় অবস্থানরত এক মার্কিন মেরিনের বিরুদ্ধে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে জাপানে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক সদস্যদের ওপর ‘কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার আইনপ্রণেতাদের তাকাইচি বলেন, ঘটনার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘পূর্ণ সহযোগিতা’ চেয়েছে জাপান সরকার। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানে বর্তমানে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মেরিন। তাদের বেশিরভাগই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৭২ সালে এটি জাপানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হামলা, গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ হয়ে আসছে।
নতুন ঘটনাটি ঘটেছে নাহা শহরের একটি হোটেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন মেরিনকে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই নারীর মানিব্যাগও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জাপানের কিয়োদো নিউজ পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হোটেলের একটি কক্ষে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার জাপানি পুলিশ ওই মেরিনকে গ্রেপ্তার করে এবং সোমবার তাকে প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, জাপানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মধ্যে শৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো অব্যাহত থাকবে।
ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর প্রভাব কমানোর দায়িত্বে থাকা কিহারা বলেন, জাপান বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ঘটনাটি জাপানজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। জাপানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টোকিওতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং জাপানে থাকা মার্কিন বাহিনীর কমান্ডারকে তলব করেছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম জিজি প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ওকিনাওয়া প্রিফেকচারাল সরকারের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১০০ মানুষ বিক্ষোভ করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, ‘আর কতদিন আমাদের এসব সহ্য করতে হবে?’
এ ছাড়া রোববার নাহাতেও প্রায় ১০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন বলে জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ওকিনাওয়ার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী সোরানে সাকিহামা রোববার টোকিওতে একই ধরনের একটি বিক্ষোভের আয়োজন করেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ওই নারীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি কেঁদেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে রক্ষা করতে পারিনি। বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত করেছে।’
১৯৭২ সালে ওকিনাওয়া জাপানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে দেশটিতে প্রায় ৬ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাপানের ইয়োমিউরি শিমবুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।