ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শীতের আগে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সমঝোতা না হলে ইউক্রেনও প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার ওয়ারশতে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়া যদি এ শীতে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তাহলে আমরাও জবাব দেব।’
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে জেলেনস্কি জানান, দুই পক্ষের কেউই এ বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। কিয়েভে যখন রাশিয়ার শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চলছিল, তখন ট্রাম্পের ওই ঘোষণা আসে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের ওই পোস্ট দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়া ইউক্রেনের খারকিভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালায়। একই সময়ে কিয়েভের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ব্যঙ্গ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে পুতিন ট্রুথ সোশ্যাল পড়েন না।’
শীত আসার আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী কিয়েভ। তবে ইউক্রেনের অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে এখন পর্যন্ত রাজি হয়নি মস্কো।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় চলমান হামলার জন্য রাশিয়াই দায়ী।
সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। তবে রাশিয়া এতে সম্মত থাকবে কি না, তা এখনো দেখা যায়নি।
এদিকে রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদরিস বলেন, এ চুক্তি জ্বালানি পণ্যের সংকট নিরসনে কিংবা রাশিয়ার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঐক্য রক্ষায় সহায়ক নয়। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোই ইউরোপের পথ।
শীত ঘনিয়ে আসার আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। জেটচালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলার কারণে যুদ্ধের এই পর্যায়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক আগেই বিদ্যুৎবিভ্রাট ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব ছিল, দুই দেশই তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখবে। তবে কালাসের মতে, রাশিয়ার শোধনাগারের সংখ্যা ইউক্রেনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এ সমঝোতা মস্কোর পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক।
ট্রাম্প ডিজেলের উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে দায়ী করেছেন। তবে এর পেছনে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবও রয়েছে।
গত শুক্রবার রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। ট্রাম্পের দাবি, আগামী মাসের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পদক্ষেপ জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।
জেলেনস্কি এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আয় কয়েক শ কোটি ডলার বাড়তে পারে, যা তাঁকে আরও তীব্রভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বলেন। শনিবার তিনি ইউক্রেনের ‘নতুন নেতা’ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে। তিনি এবিসি নিউজকে জানান, ট্রাম্পের দাবি মেনে নির্বাচন আয়োজন করতে তিনি প্রস্তুত। তবে সে ক্ষেত্রে পুতিনকে ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে।