মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৬ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৭ এএম

এডেন বিমানবন্দরে হামলা, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ৫০০ মিটার দূরে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র

আইন-আদালত
নিজস্ব প্রতিবেদক
এডেন বিমানবন্দরে হামলা, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ৫০০ মিটার দূরে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ কথা জানিয়েছে। বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরদিন এ হামলা হলো।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের রাজধানী এডেন। এ সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেন, গতকাল শুক্রবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সে সময় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উড়োজাহাজটি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার (প্রায় ১,৬৪০ ফুট) দূরে ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে পড়েছে।

ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫, আহত ১৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আল-এরিয়ানি বলেন, উড়োজাহাজের যাত্রী ও ক্রুরা সবাই নিরাপদে আছেন। সম্ভাব্য ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়’ এড়ানোয় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিমানবন্দরে এ হামলাকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন আর রীতিনীতির গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হুতিদের এক সামরিক সূত্রের বরাতে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল তারা এডেন প্রদেশে বদর সামরিক শিবিরে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর ও একটি অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরানপন্থী হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত জোরদার হয়েছে। গতকাল ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তারা রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বে মারিব প্রদেশে অগ্রসর হয়েছে।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি বলেন, আকাশপথে সহায়তা নিয়ে সরকারি বাহিনী প্রদেশটির পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য এলাকা দখলে নিয়েছে। এ সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

সৌদি-ইসরায়েলে হামলা চালাতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করছে চীন

মাজেদ আল-নাজিলি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ৪৩০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে। এ ছাড়া হুতিদের ১০০টির বেশি যান ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

ইয়েমেনের অন্যতম রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী হুতিদের কয়েকটি ‘বড় ধরনের’ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এতে হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

তাইজে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষায়িত ড্রোন পরিচালনাকারী দলকে আটকের দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

এবার আরামকোর সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় হুতিরা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ ঘিরে ফেলেছে। শহরটির সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেনের সংযোগকারী প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি সংঘাতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জোরালো হয়েছে মানবিক সংকট।

গতকাল বিমানবন্দরে হামলার আগের দিন বৃহস্পতিবার এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এ ঘটনায় ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও ১৬ জন। দেশটিতে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সরকারের কার্যক্রম এ প্রাসাদ থেকে পরিচালিত হয়।

প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব

সূত্র: অনলাইন ডেস্ক

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।