মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

ফাঁসি বা গুলির ভয় করি না, দেশের মানুষের টানে ফিরবই: শেখ হাসিনার কড়া বার্তা

জাতীয়
Sub Editor
ফাঁসি বা গুলির ভয় করি না, দেশের মানুষের টানে ফিরবই: শেখ হাসিনার কড়া বার্তা

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাংলা নিউজ নেটওয়ার্কের সাংবাদিক সুলতানা রহমানকে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।


শেখ হাসিনা জানান, দেশের মানুষের বর্তমান দুর্দশা, নিরাপত্তাহীনতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং অর্থনৈতিক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থার কথা ভেবেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের জনগণ সুখে থাকলে তার কোনো দুঃখ থাকত না, কিন্তু মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা না থাকাটা তাকে ব্যথিত করেছে। তার পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড বন্ধ করে রাখা হলেও ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।


ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাড়িটি তাদের ভাই-বোনদের ছিল না, এটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে জনগণের সম্পত্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে একটি পারিবারিক মিউজিয়াম করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, যে যুবদল নেতা সেখানে আগুন দিয়েছে, তার নাম-ঠিকানা তার কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে এবং এই স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা মূলত জাতির পিতা ও দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকেই অস্বীকার করার শামিল।


বর্তমান সরকারকে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়ে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লোভ থেকে ড. ইউনূস এই কাজ করেছেন; ২০০৭ সালেও তিনি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, একটি মানুষের লোভের আগুনে আজ সারা বাংলাদেশ জ্বলছে এবং দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতের চরম অবনতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তাদের সময় মেয়েদের শিক্ষার হার ৯৮ ভাগে উন্নীত হয়েছিল, অথচ বর্তমানে মাধ্যমিকে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।



আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে বা নিষিদ্ধ করে কোনো নির্বাচনের বৈধতা থাকতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভোটের অধিকারের জন্য আওয়ামী লীগ সবসময় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কীভাবে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বৈধ নির্বাচন সম্ভব? অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলকারীদের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো অধিকার নেই বলেও তিনি দাবি করেন।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তার বিচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু আজ বিদেশি রাষ্ট্রের এজেন্ট হয়ে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। দেশে ফিরলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে—এমন শঙ্কার জবাবে তিনি অবিচল কণ্ঠে বলেন, "আমি গেলে তারা আমাকে ফাঁসি দিতে পারে, গুলি করে মারতে পারে।" তবে এসব নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ২০০১ সালের অমানবিক নির্যাতনের পরও ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি প্রতিশোধ নেননি। পথভ্রষ্টদের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে হেদায়েত কামনা করেন এবং জানান যে, যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে, শুধু তাদেরই বিচার হওয়া উচিত, তাদের নিরপরাধ পরিবারের নয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।