মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:২২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

মালয়েশিয়ায় ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি চক্র: ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অর্থ-বাণিজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ায় ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি চক্র: ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চাউকিট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বড় ধরনের হুন্ডি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, এই অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার দায়ে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার আড়ালে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, প্রায় এক মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারির পর মঙ্গলবার দুপুরে এই অভিযান শুরু হয়। আটককৃত আট বাংলাদেশির বয়স ২৪ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বৈধ ব্যবসার আড়ালে ই-ওয়ালেট এবং স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করত। যারা ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত ছিলেন না, তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ করে কৌশলে তা স্থানান্তর করত তারা। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, দীর্ঘ এক মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শুরু হয়। অভিযানে ২৪ থেকে ৪২ বছর বয়সের আট বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের কার্যক্রমের সময়সীমা ছিল বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং কার্যদিবস অনুযায়ী, অর্থাৎ রোববার থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। তদন্তকারী দল ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টগুলোতে ১ লাখ ৮০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিতের লেনদেনের রেকর্ড পেয়েছে। অভিযানকালে নগদ ২৪ হাজার ৭২০ রিংগিত জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি পাসপোর্ট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, কিউআর কোড এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উদ্ধার করা নথির মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া কোম্পানি কমিশনের কপি, কুয়ালালামপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স এবং দোকানের সিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটজনের মধ্যে দুজনের ভিসা বা বসবাসের মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে এবং বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পাস অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে আরও দুই বাংলাদেশি এবং একজন মালয়েশীয় পুরুষ ও একজন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।