মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৩ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

সৌদিতে ফ্লাইট বন্ধ: ১৮ দিনে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি

আন্তর্জাতিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদিতে ফ্লাইট বন্ধ: ১৮ দিনে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি

সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট পরিষেবা টানা ১৮ দিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন শিল্প বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিমান সংস্থাগুলোর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে এয়ারলাইনগুলোর ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। সব এয়ারলাইন মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন। ওমরাহ পালনের জন্য বুকিং করা যাত্রীরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ফ্লাইট বাতিলের এই সিদ্ধান্তে হাজারো প্রবাসী ও ভ্রমণপিপাসু যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত দুই রুটে ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, যার ফলে ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। অনেক প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দিতে না পারার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওমরাহ যাত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এয়ারলাইন খাত ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে জেদ্দা ও মদিনা হয়ে বিকল্প পথে সৌদি আরব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এতে যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। এদিকে, নিরাপত্তার উদ্বেগ শুধু সৌদি রুটে সীমাবদ্ধ নেই; ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলায় ইউরোপগামী ফ্লাইটের টিকিট বাতিলের হারও অনেক বেশি। ইনোগ্লোব ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিম আমিন শোভন জানান, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ইউরোপগামী যাত্রীদের ৭০ শতাংশের বেশি টিকিট বাতিল করা হয়েছে।

পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ফ্লাইট চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটন খাতে ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হবে। প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা এবং যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবাই এখন দ্রুত নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।