মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

বিধান পরিষদ নির্বাচন: ভারত জুড়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের উদ্বেগ

রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিধান পরিষদ নির্বাচন: ভারত জুড়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের উদ্বেগ

ভারতের উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্ণাটকের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ভারতের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেস—উভয়কেই নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে। মোট ২৮টি আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিজেপির বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারানসি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দপ্তর নাগপুরে তাদের পরাজয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের অস্বস্তি তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে; নাগপুর ছাড়া অন্য কোনো আসনেই তারা জয়লাভ করতে পারেনি। বিশেষ করে কর্ণাটকে ক্ষমতাসীন দল হওয়া সত্ত্বেও চারটি আসনের প্রতিটিতে হেরে যাওয়া তাদের জন্য বড় ধাক্কা। ওই রাজ্যে ৪ আসনের প্রতিটিতেই তারা হেরেছে। গতকাল বুধবার এই ফল প্রকাশের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘চার বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্ণাটকে বিধান পরিষদের ২৮ আসনে ভোট হলো। মোদি কংগ্রেসকে তা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি। এই আসনটি ২০২০ সালেও কংগ্রেস জিতেছিল।

নির্বাচনী ফলাফলের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, এই চার বড় রাজ্যে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের পরও কংগ্রেসের আসনপ্রাপ্তির সংখ্যা কত? তিনি মন্তব্যের শেষে আতশি কাচ ধরা একটি ইমোজি ব্যবহার করেন। ইভিএমের সমালোচনা করে দীর্ঘকাল ধরে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসা কংগ্রেসকে এক হাত নিতে মোদি এই সুযোগটি কাজে লাগান। যদিও তার এই মন্তব্যের সময় নাগপুরের ফলাফল তখনও ঘোষিত হয়নি।

শেষ পর্যন্ত নাগপুরের ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশের নির্বাচনী আসন এবং আরএসএস-এর ঘাঁটি নাগপুরে ৩ হাজার ২৭১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ওয়াংজারি। নাগপুর থেকেই টানা ২৪ বছর বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নীতিন গড়করি। এই জয়ের পর কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা পাল্টা মোদিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, মোদি সাহেব নিজের লোকসভা আসন ও নাগপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপিকে জেতাতে পারেননি। কিন্তু এবার তা ছিনিয়ে নিতে সেখানকার বাসিন্দা ও সেখান থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ফাডনবিশ এবং সেখানকার সংসদ সদস্য নিতিন গড়করি চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি।

উত্তর প্রদেশে মোট ১১টি আসনে ভোট হয়েছে, যার মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬টি এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি) জিতেছে ৫টি। সমাজবাদী পার্টি আগের বারের চেয়ে ২টি বেশি আসন পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বারানসির মতো আসনে শিক্ষিত ভোটারদের (শিক্ষক ও স্নাতক) বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রেও বিজেপি খুব একটা স্বস্তিতে নেই; পাঁচটি আসনের মধ্যে তাদের জোট ‘মহাজুটি’ পেয়েছে মাত্র দুটি, আর বিরোধী ‘এমভিএ’ জোট জয়ী হয়েছে তিনটিতে। উত্তর প্রদেশে ভোট হয় ১১ আসনে। তিন মাসের মধ্যে যে রাজ্যে বিধানসভার ভোট, সেখানে বারানসির মতো আসনে ২ বিধান পরিষদে এসপির কাছে হার এবং এসপির আসন বৃদ্ধি রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। মোট আসনের ১২ ভাগের এক ভাগের নির্বাচকমণ্ডলী হলেন শিক্ষক সমাজ ও স্নাতকেরা। মোট আসনের ৬ ভাগের এক ভাগকে মনোনীত করেন রাজ্যপাল।

কর্ণাটকের চিত্রটি কংগ্রেসের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক। যে চারটি আসনে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি ছিল বিজেপির দখলে এবং একটি ছিল কংগ্রেসের। মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর ডি কে শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন এই প্রথম নির্বাচনে কংগ্রেস নিজেদের জেতা আসনটিও ধরে রাখতে পারেনি। কর্ণাটক বিধানসভার সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে। ঘর গোছানোর জন্য সময় থাকলেও সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলটিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কংগ্রেস ‘ভোট চুরি’র জন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি দায়ী করে আসছে ইভিএমকেও।

অন্যদিকে বিহারে প্রশান্ত কিশোরের ‘জনসুরাজ পার্টি’র সাফল্য নজর কেড়েছে। বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জয়ের পর তারা বিধান পরিষদেও নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। তারা দ্বারভাঙা শিক্ষক আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে ৩২৪ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছে। বিহারের ৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩টি, জেডি(ইউ) ১টি, আরজেডি ও জনসুরাজ ১টি করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২টি আসনে জয়লাভ করেছেন। বিহারে ভোট হয় ৮ আসনে।

উল্লেখ্য, ভারতের রাজ্যগুলোর উচ্চকক্ষ হিসেবে পরিচিত বিধান পরিষদের নির্বাচকমণ্ডলী সাধারণত শিক্ষক, স্নাতক, বিধায়ক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এবার যে ৪টি রাজ্যে ভোট হয়েছে, তার নির্বাচক ছিলেন শুধুমাত্র শিক্ষক ও স্নাতক ভোটাররা। যদিও ভারতজুড়ে অধিকাংশ রাজ্যে বিধান পরিষদ তুলে দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমানে উত্তর প্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশ—এই ছয়টি রাজ্যে উচ্চকক্ষ চালু রয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।