মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:১৬ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, সাজসজ্জায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, সাজসজ্জায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বীপটিতে পর্যটন কার্যক্রম শুরুর খবরে ব্যবসায়ীরা হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ সংস্কারে তোড়জোড় শুরু করেছেন। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে রিসোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ইকো রিসোর্টের পরিচালক ও ব্যবসায়ী খায়রুল আলম জানান, পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রিসোর্টের কাঠের কাঠামো ও ছাউনি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম অকেজো হয়ে পড়েছে। এই সংকটময় সময়ে মেরামত কাজ শেষে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বছরে মাত্র দুই-তিন মাসের উপার্জনেই সারা বছর আমাদের চলতে হয়। বিগত দুই বছর পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও যাতায়াত বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এখন পর্যটকদের বুকিং পাওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। অনেকদিন ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন সরঞ্জামও। কিন্তু দুই বছর ধরে রাত্রিযাপন বন্ধসহ পর্যটক চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। ইতিমধ্যে পর্যটকদের বুকিংও পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা তিন শতাধিক আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ এসব অনুমোদনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা শ্রমিক নেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করছেন। ঢাকার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, গলাচিপা এলাকায় অবস্থিত তার রিসোর্টের বাঁশের বেড়া ও ছাউনি পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

প্রস্তুতির এই ধুমধাম আয়োজনের মধ্যে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বীপের জেটির জরাজীর্ণ পন্টুন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পন্টুনে মরিচা ধরে গর্ত তৈরি হয়েছে, যা মেরামতের অভাবে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাজ চলছে ঠিকই, তবে দ্রুত পন্টুন মেরামত না করলে পর্যটকদের ওঠা-নামায় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্বীপের বাসিন্দা মুহাম্মদ আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর পন্টুনের জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দ্রুত মেরামত করা না হলে পর্যটকদের ওঠানামার সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকে যাবে।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে থাকা এই জেটি ও পন্টুন বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন জানান, প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে জেটির নির্মাণকাজ চলছে যা চলতি ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। বর্তমানে পন্টুন মেরামতের কাজও চলমান রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, পর্যটন চলাচলের আগেই প্ল্যাটফর্মের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে ভ্রমণকারীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।