মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৫ এএম

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট কাটলেও শেষ হয়নি অনিশ্চয়তা

জবস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট কাটলেও শেষ হয়নি অনিশ্চয়তা

দীর্ঘ ১৬ বছর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকার পর পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন অনেকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রায় ১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা আর আইনি জটিলতা এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুন মাসে আপিল বিভাগে আইনি বাধা দূর হলেও, আদালতের রায়ের অনুলিপি হাতে পেতে প্রায় পাঁচ মাস সময় পার হয়ে গেছে। যদিও এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে, তবুও শিক্ষকদের মনে রয়ে গেছে গভীর সংশয়—কবে নাগাদ তাঁরা কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতির চিঠি হাতে পাবেন। পদোন্নতি আটকে থাকায় তাঁরা শুধু পদমর্যাদা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

রংপুর বিভাগের এক সহকারী শিক্ষকের মতো হাজারো শিক্ষক বছরের পর বছর পদোন্নতিবঞ্চিত থাকায় পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি আর্থিক সুবিধাও হারান। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে অধিদপ্তরের কাছে শিক্ষকদের প্রধান দাবি হলো, আর কোনো নতুন আমলাতান্ত্রিক অজুহাতে যেন সময়ক্ষেপণ না করা হয়। বিশেষ করে যাদের চাকরির মেয়াদ একেবারেই শেষ প্রান্তে, তারা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ ও পদোন্নতির আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন।

বর্তমানে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ডিপিইর মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর থমকে থাকা কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির জন্য শিক্ষকদের সার্ভিস বুক, বদলির রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে কোনো যোগ্য প্রার্থী ভুল তথ্যের কারণে তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বেসরকারি চাকরিতে বেতন ‘আলোচনা সাপেক্ষে’, দর-কষাকষি কীভাবে করবেন চাকরিপ্রার্থীরা।

জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে আদালতের নির্দেশনানুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হবে। তবে এতে শর্ত রয়েছে যে, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সরকারি শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় এগিয়ে থাকবেন। এই নিয়ম মেনেই বর্তমানে জেলাভিত্তিক গ্রেডেশন বা জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে তালিকা চূড়ান্ত করে কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতির আদেশ দেওয়া হবে, তা নিয়ে অধিদপ্তর থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। তখন প্রণীত বিধিমালার ৯(১) বিধি অনুযায়ী, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ সময়কে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়। তবে তাঁদের অবস্থান সরাসরি নিয়োগ পাওয়া সরকারি শিক্ষকদের নিচে রাখার শর্তও ছিল। জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই বিধানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট সরকারের ওই শর্ত বাতিল করলেও আপিল বিভাগ পরে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারের বিধিমালার পক্ষেই রায় দেন। চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অবসর ঘনিয়ে আসা শিক্ষকেরা আছেন আরও বড় উদ্বেগে।

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পদোন্নতিপ্রক্রিয়া শুরু হলেও অনেক শিক্ষক এখনো আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

ঢাকার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ১৩টি বছর মামলা-মোকদ্দমার পেছনেই চলে গেছে।

গত জুনে রায় হওয়ার পরও নথিপত্র পেতে দীর্ঘ পাঁচ মাস সময় নষ্ট হয়েছে।

এখন মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই বা ফাইল চালাচালির নাম করে যেন নতুন কোনো বিলম্ব না করা হয়, সে বিষয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। অবসরের পথে থাকা আরেক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, হাতে মাত্র দেড় বছর সময় আছে; এই সময়েও যদি দীর্ঘসূত্রতা বজায় থাকে, তবে কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে পদোন্নতি পাওয়ার আশা আর পূরণ হবে না।

এই পদোন্নতিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ৩৬ হাজার ২৩৫ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হবেন, যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বসংকট দূর করবে। তবে এই পদোন্নতি বড় ধরনের শূন্যতাও তৈরি করবে। বিদ্যমান শূন্য পদের সাথে পদোন্নতিজনিত নতুন শূন্য পদ মিলে মোট ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি হবে। যদিও সম্প্রতি ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবুও পদোন্নতি কার্যকর হলে মাঠপর্যায়ে শূন্যতা পূরণের জন্য ডিপিইকে পুনরায় বড় ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেতৃত্বসংকট কাটবে। একই সঙ্গে দেশে তৈরি হবে নতুন নিয়োগের পথ। এআই যুগে গণিত শেখা কি জরুরি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।