জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট এবং সরকারি নীতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই দিন দেশজুড়ে বিভিন্ন দোকান, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। হ্যালোইন উৎসবের মধ্যেই শনিবার এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ অবস্থায় সরকারি ব্যয় কমানোর চাপের মুখে রয়েছে মাখোঁ সরকার।
বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্যারিসের মিছিলের শেষভাগে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অভিযান চালায়। লিওঁ, তুলুজ ও মার্সেই শহরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। গত ১৭ অক্টোবর দেশটিতে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর এটি ছিল টানা তৃতীয় সপ্তাহের বিক্ষোভ। যদিও আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় এবারের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। বিক্ষোভের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, রাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না এবং পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিক্ষোভের পেছনে মূলত অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। প্যারিসের আন্দোলনকারী জেরোম রদ্রিগেজ বলেন, ফ্রান্সের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের ভুল নীতির ফলে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং সামান্য অর্থের জন্য তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় অসংগতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরবর্তীতে শ্রমিক সংগঠন ও 'ইয়েলো ভেস্ট' আন্দোলনের কর্মীরাও যোগ দেন। কোটি কোটি ইউরোর হিসাব-নিকাশের মধ্যে সাধারণ মানুষ সামান্য অর্থের জন্যও হিমশিম খাচ্ছে। পরে তাঁদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলো যোগ দেয়।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের জন্য এই অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ গত শুক্রবার ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস 'নেতিবাচক' হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। এদিকে, ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের রেশ ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও দেখা গেছে। জার্মানির বিভিন্ন শহর ও ইতালিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দোকানপাটে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের সরকারি ঋণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২০ শতাংশে পৌঁছেছে।