মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

পুলিশ: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে গুলিতে হতাহতের খবর গুজব

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে গুলিতে হতাহতের খবর গুজব

গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কোনো শ্রমিক হতাহত হয়েছেন বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া গুজব বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে স্পষ্ট করা হয় যে, পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো ধরনের উসকানিমূলক অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য শ্রমিক ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ো হয়। একই সঙ্গে আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ ও চন্দ্রাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় অশুভ চক্র সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে সহিংসতা ও ভাঙচুর চালানোর অপচেষ্টা করছে। সরকারি সম্পদ ও জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ অত্যন্ত সংযত ভূমিকা পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনসহ দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তাই শ্রমিকদের আইনানুগ পথে থেকে নিজ কাজে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই দুষ্কৃতকারীদের প্ররোচনা ও উসকানিতে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরে জড়িয়ে না পড়ে শ্রমিকদের নিজ নিজ কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান ো হয়েছে। এ সময় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

অন্যদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার স্বাক্ষরিত অপর একটি বিজ্ঞপ্তিতে মহানগর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার শ্রমিকদের একাংশ মহাসড়ক অবরোধ করলে একপর্যায়ে নাওজোড় এলাকায় দুর্বৃত্তরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটিতে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় জেলা পুলিশের একজন সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। জিএমপি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের আওতাধীন শ্রীপুরসহ কোনো এলাকাতেই গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেনি।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যাচাইহীন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে নগরবাসীদের। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত ও অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার কালিয়াকৈরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এতে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, নিজ পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগত বা অপরাধী চক্রকে বাসা ভাড়া দিলে অথবা তথ্য গোপন করলে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দায়ভার বাড়ির মালিককেই বহন করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত থানা বা উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু এলাকায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।