সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সাথে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৬৫টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে আকাশপথে যাতায়াতকারী প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মূলত ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ার ঘটনায় সৌদি আরবগামী এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও দুর্ভোগ বাড়ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) গত ১ নভেম্বর বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এই ১৬৫টি ফ্লাইটে মোট ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৮৮টি সরাসরি ফ্লাইট। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪১টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৬টি ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে পরিচালিত ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটও এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত ২৫ অক্টোবর একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সকল ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্থাটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে প্রবাসী কর্মীসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী অসংখ্য যাত্রী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। টিকিট পরিবর্তন বা নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি নিশ্চিত করা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সৌদি আরবের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ফ্লাইটের সর্বশেষ আপডেট জেনে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সৌদি রুটে পুনরায় স্বাভাবিক বিমান চলাচল নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।