বিজ্ঞানকে কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ ও গবেষণায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কলেজে আয়োজিত হচ্ছে ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াড। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। এখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চারজন প্রতিযোগী আগামী ১৯ থেকে ২৭ জুলাই তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনা নয়, বিজ্ঞানকে জানা ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের আগ্রহ তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে রসায়ন অলিম্পিয়াড। এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এক একজন রসায়নবিজ্ঞানী হবেন, দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন সমাধান করার জন্য আত্মনিয়োগ করবেন।
এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ কে এম শামসুদ্দিন আজাদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে আমাদের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ শিক্ষা খাতের ঘাটতি। আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি।
বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রফেসর ড. মু. ইদ্রিস আলী রসায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, এটি একটি মৌলিক বিজ্ঞান। মানবিকতা, সামাজিকতা ও মৌলিকতার সমন্বয়ে গঠিত এই শাস্ত্রের বাইরে আমাদের অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই রসায়নের গভীর প্রভাব রয়েছে। এছাড়া সমিতির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন বলেন, আমরা সবাই রসায়নের সুফল ভোগ করছি। অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী এই মেধাবীরা ভবিষ্যতে দক্ষ রসায়নবিজ্ঞানী হয়ে বিশ্ব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দৈনন্দিন জীবনের সকল প্রক্রিয়ায় রসায়নের বিকল্প নেই।
রসায়ন অলিম্পিয়াডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের কো-কনভেনর ও সিনিয়র সাংবাদিক কবি নাজিমুদ্দীন শ্যামল বলেন, মৌলিক বিজ্ঞান ছাড়া বিজ্ঞানচর্চা পূর্ণতা পায় না, তাই রসায়ন গবেষণায় বিনিয়োগ ও বরাদ্দ বাড়ানো অপরিহার্য। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মো. মোসলেহ উদ্দিন, মঞ্জুরুল করিম, সুভাষ চন্দ্র দাশ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাবুল চন্দ্র নাথ, মো. আবদুল হান্নান, অধ্যাপক মো. নূরুল আনোয়ার এবং মো. আবুল হাসেম।