ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে জাল টাকা তৈরির একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে জাল নোট ছাপানোর কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদুপোজু কর্ণাকারসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অন্য তিনজন হলেন চিন্নোল্লা মানিক্য রেড্ডি, চেরুকুপেল্লি রত্নাকর রেড্ডি ও করণম অজয় কুমার। এছাড়া চক্রের আরও তিনজন সদস্য পলাতক রয়েছেন, যাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
তদন্তকারী পুলিশ জানায়, মূল অভিযুক্ত মাদুপোজু কর্ণাকার মূলত ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেছিলেন। এর পর তিনি কুন্টলুর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে নোট ছাপানোর কারখানা তৈরি করেন। ১ নভেম্বর রামোজি ফিল্ম সিটির কাছে ৬৫ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ৮ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে আবদুল্লাপুরমেট থানা ও শাদনগর বিশেষ অভিযান দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে পরে কুন্টলুর এলাকার ওই ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাল নোট তৈরির কাজ শুরু করেন।
অভিযানকালে ওই বাড়ি থেকে ৫০০ টাকার নোটের ১৩৪টি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা জাল নোটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কারখানা থেকে রঙিন মুদ্রণযন্ত্র, স্ক্যানার, ল্যাপটপ, লেমিনেশন মেশিন ও নোট কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ফিউচার সিটি পুলিশের কমিশনার তরুণ যোশী জানান, চক্রটি প্রতি এক লাখ টাকা আসল অর্থের বিনিময়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার জাল নোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেখান থেকে আরও ১৩৪ বান্ডিল ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রতারণার নতুন পথ বেছে নেয়। পুলিশি ভাষ্যমতে, ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য শুরুতে আসল টাকা দেখিয়ে পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে নকল অস্ত্র, ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে তাদের ভয় দেখানো হতো। এভাবে চক্রটি প্রতারণা করে লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। দুটি পৃথক ঘটনায় এভাবে যথাক্রমে দুই লাখ ও তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।