মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্তমান প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন। বর্তমানে রুবিও ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই দায়িত্ব পালন করছেন, যা হেনরি কিসিঞ্জারের পর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি হিসেবে বিরল ঘটনা। রুবিওর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেন, প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানো তার জন্য যথেষ্ট যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
ওয়াশিংটনের একটি রাজনৈতিক সূত্রের মতে, আগামী নির্বাচনে নিজের পথ পরিষ্কার করতে এবং ইরান যুদ্ধের দায় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে রুবিওর জন্য প্রশাসন ত্যাগ করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বর্তমানে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তিনি সামনের সারিতে রয়েছেন। তবে বর্তমান পদে বহাল থাকলে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামা অসম্ভব। এছাড়া ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠতা তার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এদিকে ইরান ইস্যুতে রুবিওর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে নীরব হয়ে এসেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই লড়াইয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভ্যান্স ইতিমধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের নীতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, পরাজয়ের কারণ সবার কাছেই স্পষ্ট এবং প্রেসিডেন্ট নিজেও তা অবগত আছেন। এদিকে, পররাষ্ট্রনীতির মূল দায়িত্বে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নির্ধারণে রুবিওকে অনেকটা আড়ালে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রুবিওর রাজনৈতিক গতিবিধি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। সাবেক ও বর্তমান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতার সুবাদে রুবিও সেখানে বেশ ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন। বিশেষ করে ইয়েভেট কুপারের মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ আলোচক হিসেবে গণ্য করেন। তাদের মতে, রুবিও একটি শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন।
তবে ট্রাম্পের প্রশাসনে রুবিওর অবস্থান বর্তমানে বেশ প্রভাবশালী। একসময় প্রেসিডেন্ট তাকে 'লিটল মার্কো' বলে কটাক্ষ করলেও, বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া তার লাতিন আমেরিকা বিষয়ক নীতির প্রয়োগ নিয়ে ভবিষ্যতে নানা প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে ওয়াশিংটনের জটিল সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা আছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার অন্তত চার থেকে পাঁচজন সদস্য পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউস থেকে এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একে 'ভিত্তিহীন ভুয়া খবর' হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলোর দাবি, রুবিওর পদত্যাগের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি বরং প্রশাসনের অস্থিরতা কাটাতে তিনি হয়তো দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন। গত সেপ্টেম্বরে রুবিও নিজে জানিয়েছিলেন যে, আপাতত তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তিনি বর্তমান প্রশাসনিক কাজে পুরোপুরি মনোযোগী। তবে ভ্যান্স নির্বাচনে দাঁড়ালে তিনিও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামতে পারেন বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।