মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:২৬ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:০০ এএম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় আট বছর বয়সী শিশু সোহাগকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার দায়ে মো. ইমন হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১-এর বিচারক নিস্কৃতি হাগিদক এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন, যা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম মো. ইমন হোসেন (২৮)।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ পতেঙ্গার খালপাড় এলাকায় শিশু সোহাগ খেলছিল।

তখন রিকশাচালক ইমন হোসেন বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে চেয়ারম্যান গলির একটি পরিত্যক্ত ভাড়া ঘরে নিয়ে যান। সেখানে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে সোহাগ বাধা দেয় এবং পালানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন একটি ইট দিয়ে শিশুটির মাথায় ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির পর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ এবং পাশে রক্তমাখা ইটটি উদ্ধার করেন। পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর তথ্যের ভিত্তিতে পরে ইমনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখানে ৫০ টাকা দিয়ে শিশুটিকে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন তিনি। মরদেহের পাশে রক্তমাখা একটি ইটও পাওয়া যায়।

নিহত সোহাগের বাবা মো. ফারুক হোসেন ভূঁইয়া এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত ইমন হোসেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।