যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ‘চাটগাঁ হাউস’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রবাসে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগ, শ্রম ও অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই ভবনটি তাঁদের ঐক্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক জমকালো আয়োজনে ভবনটির উদ্বোধন করা হয়, যেখানে চট্টগ্রামের তিন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় তিন বছর আগে লন্ডনে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসী সম্মিলিত উদ্যোগে এই ভবনটি ক্রয় করেছিলেন। যদিও ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে এখানকার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তবে গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর দ্বার উন্মোচন করা হলো। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের অন্য দুই সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও মোহাম্মদ এনামুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
সি ফর চাটগাঁর ফাউন্ডার ডিরেক্টর সাজ্জাদুল ইসলাম ও সেলিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাটগাঁ হাউসের ফাউন্ডার ডিরেক্টর প্রফেসর নাজিম উদ্দিন। তিনি এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পটভূমি, প্রবাসে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব এবং ভবিষৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সি ফর চাটগাঁর মিডিয়া ডিরেক্টর মোহাম্মদ সেলিম হোসাইন এবং কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহেদুল করিম মাসুদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও এটিএন বাংলার চট্টগ্রামের ডেপুটি চিফ ইনচার্জ সাংবাদিক মঞ্জুরুল কাদের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্বে উপস্থিত তিন সংসদ সদস্যকে সি ফর চাটগাঁর পরিচালকদের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া রবি চৌধুরী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল কাদের চৌধুরীকেও বিশেষ ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাটগাঁ হাউসের ফাউন্ডার ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলী রেজা। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তি খসরুজ্জামান খসরু, আব্দুল মান্নান, নাজিম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, সাকিব হুদা, সিরাজুল ইসলাম, সোহেল রানা, যুগলুল হায়াত চৌধুরী, শেখ নাছের, হেফাজুল করিম রাকিব, সরওয়ার হোসেন, ডা. রেজাউল করিম, জুয়েল আবেদীন চৌধুরী ও সাইদুর রহমান মঞ্জুসহ কমিউনিটির অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
বক্তারা এই উদ্যোগকে প্রবাসীদের জন্য এক স্মরণীয় অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁদের মতে, চাটগাঁ হাউস কেবল ইটের তৈরি একটি ভবন নয়, বরং লন্ডনে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক স্থায়ী ঠিকানা। প্রবাসের প্রতিকূলতায় নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য এমন একটি কেন্দ্র থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে তাঁরা অভিমত দেন।
প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া চাটগাঁ হাউসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামবাসীর পারস্পরিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে এবং জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়বে।
উপস্থিত অতিথিরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, এই চাটগাঁ হাউস বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হবে। এটি প্রবাসে চট্টগ্রামবাসীর সম্মিলিত স্বপ্ন ও গর্বের প্রতীক হয়ে থাকবে, যা শত বছর ধরে তাঁদের আত্মপরিচয় বহন করবে।