মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

সবার আগে বাংলাদেশ: ৭ নভেম্বরকে ম্যাগনা কার্টা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
সবার আগে বাংলাদেশ: ৭ নভেম্বরকে ম্যাগনা কার্টা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যখনই ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখনই দেশের মানুষ ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিক এই দিবসটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ঘিরে আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ইতিহাসভিত্তিক একটি মনোমুগদ্ধকর ডিসপ্লে উপস্থাপন করেছেন, প্রথমেই আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- তারুণ্যের সব সম্ভাবনাকে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

৭ নভেম্বরকে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য গৌরবোজ্জ্বল দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চলা সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। তার মতে, ওই দিনটি ছিল দেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সেই সময় ২ নভেম্বর মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে যে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল, সিপাহি-জনতার ঐক্যের মাধ্যমে তা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিনে সবাইকে নজরুলবর্ষের শুভেচ্ছা। দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন। তিনি বলেন, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। '৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, পঁচাত্তর সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি জনতার বিপ্লব, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী। এই নেতা আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব; তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

তারেক রহমান আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং একদলীয় শাসন কায়েম করে সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব তাদের পরাজিত করেছে। তবে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ এবং ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেই পরাজিত অপশক্তি পুনরায় পরাজিত হয়েছে। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে পুনরায় ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ এবং আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য, আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের লড়াই ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের জন্য ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই বিপ্লবের তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

আজকের অনুষ্ঠানের ডিসপ্লেতে তরুণ প্রজন্মের ইতিহাসভিত্তিক উপস্থাপনার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সচেতন প্রজন্ম সঠিক পথে থাকলে দেশ কখনো পথ হারাবে না। জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত তরুণরাই সব ক্রান্তিকালে আপসহীন ভূমিকা রেখেছে। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করে। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।

ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশের অধিকার হরণ করতে না পারে, সেজন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’—এই পরিচয়ই আমাদের শক্তি। তিনি ঘোষণা দেন, এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হোক—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং কাউকে দেশীয় বা বিদেশি তাঁবেদারে পরিণত হতে না দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই গর্বিত পরিচয়- ‘আমরা বাংলাদেশি’। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক-ভৌগোলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি জনতার বিপ্লবের চেতনা মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক এই মঞ্চ থেকে দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি দীপ্ত উচ্চারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।’ অনুষ্ঠানে তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে লড়াই করা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং কিশোর-কিশোরীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লের জন্য অভিনন্দন জানান।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।