ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।
দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং অসহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আইআরজিসির এমন হুঁশিয়ারি আসে। তবে ‘রেড লাইন’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জনগণের সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাতে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা তাদের কাছে অগ্রাধিকার। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
এদিকে কর্তৃপক্ষ এখনও ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রেখেছে। পশ্চিম ইরানের এক বাসিন্দা ফোনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার এলাকায় আইআরজিসি মোতায়েন রয়েছে এবং গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে নতুন করে সতর্ক করেন। পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে।
ইরান সরকার অবশ্য এই আন্দোলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী এবং বাকিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।