রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রোববার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার মাধ্যমে ডিবি পুলিশ দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জসহ একাধিক জেলায় অভিযান চালিয়ে দুই শুটারের একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে শুটার জিনাত (পিতা: আব্দুর রশিদ) এবং হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী বিল্লাল হোসেন (পিতা: শহিদুল্লাহ) রয়েছেন। এছাড়া শহিদুল্লাহর ভাই আব্দুল কাদের ঘটনার পর আসামিদের পালাতে সহায়তা করেন এবং তাদের মোবাইল ফোন পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন বলে জানায় ডিবি।
ডিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের আগে ভুক্তভোগীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রেকি করা হয়েছিল। এতে রিয়াজ নামের একজন সহায়তা করেন, তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুটার জিনাত ও বিল্লাল রাজধানীর মহাখালী এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের কাছ থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে রহিম নামে আরেক শুটার এখনও পলাতক রয়েছে।
হত্যার কারণ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার জানান, প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক কোনো প্রেক্ষাপট পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কারওয়ান বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।