মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, তারিখ নড়বে না: ইউনূস

জাতীয়
Sub Editor
১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, তারিখ নড়বে না: ইউনূস
১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দুই মার্কিন কূটনীতিক | ছবি: প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের অবস্থানে অনড় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কে কী বললো, তা বিবেচ্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়—সেদিনই নির্বাচন হবে।’

তিনি আরও জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করা হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে প্রশাসন পরিচালনা করবে।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনা নিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সমর্থন পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ বন্ধ করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।

এ সময় আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর এখন বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম বড় হুমকি হয়ে উঠেছে, যা মোকাবিলায় আরও শক্ত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে প্রফেসর ইউনূস জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার সে প্রক্রিয়া তিনি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তবে অপরাধ স্বীকার ও অনুশোচনার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এমন উদ্যোগ বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।