মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের ভিসা কার্যক্রম স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের ভিসা কার্যক্রম স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে


বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা ভিসা স্থগিতের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করলেও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ফক্স নিউজ পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।

ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিতের এই কার্যক্রম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী নির্দেশনা বা পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া বন্ধ থাকবে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, রাশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কুয়েত, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাকসহ বহু দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিমালার আওতায় ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করেন এবং প্রয়োজন হলে আবেদন বাতিল করেন।

‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভিসা আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর নিজের খরচে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না—তা মূল্যায়ন করা হয়। যদি মার্কিন প্রশাসনের ধারণা হয় যে আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি কল্যাণভাতা বা অন্য কোনো সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাহলে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে এই ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়ার অংশ হিসেবেই এত বড় পরিসরে ভিসা স্থগিতের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদারতার সুযোগ নিয়ে যারা সরকারি সহায়তার ওপর বোঝা হয়ে উঠতে পারেন, তাদের সম্ভাব্য অভিবাসী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র দপ্তর তার দীর্ঘদিনের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।”

তিনি আরও জানান, অভিবাসন ব্যবস্থার সার্বিক পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী এলাকায় এক আফগান নাগরিকের গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের এক সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনার পর ট্রাম্প তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এই ভিসা স্থগিতের উদ্যোগ সেই ঘোষণারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যেসব ৭৫ দেশের ভিসা কার্যক্রম স্থগিতের তালিকায় রয়েছে

আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।