ইসলামপন্থিদের ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে এখনো আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। টানা কয়েকদিন আলোচনা চললেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় বুধবার ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কথা জানান। তবে কী কারণে এটি স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জামায়াতকে ঘিরে তাদের মধ্যে ‘অবিশ্বাস’ তৈরি হয়েছে। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি জাতীয় পার্টির মতো দ্বৈত ভূমিকা নেয়—সরকার ও বিরোধী রাজনীতির মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে—তাহলে দেশ আরও সংকটে পড়তে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই জোটে নতুন করে বিভেদ দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রত্যাশিত আসন না পাওয়া এবং নীতিগত বিষয়ে একমত না হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বর্তমানে আপিল নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০ জানুয়ারি।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে প্রথমে আটটি ধর্মভিত্তিক দল নিয়ে এই জোট গঠিত হয়। পরে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হয়।
আসন বণ্টন নিয়ে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে। ইতোমধ্যে জামায়াত ২৭৬টি এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন অন্তত ১৫০ আসনের দাবি করলেও জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাত্র ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হওয়ায় তারা অসন্তুষ্ট।
অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৫০টি আসন চাইলেও শেষ পর্যন্ত ১৩টিতে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে। খেলাফত মজলিস পেয়েছে পাঁচটি আসন। নেজামে ইসলাম ও খেলাফত আন্দোলন পেয়েছে দুটি করে আসন, আর বিডিপি ও জাগপা পেয়েছে একটি করে।
নতুন যোগ দেওয়া এনসিপি শুরুতে অর্ধশতাধিক আসন দাবি করলেও প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসনে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা গেছে, তবে সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, তারা এখনো জোট টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, তবে অসম্মান বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না। গাজী আতাউর রহমান জানান, জোটে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে তারা দ্রুত সিদ্ধান্তে যাচ্ছেন না; দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে নতুন কোনো জোট গঠনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে তারা এখনো ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র অবস্থানেই আছেন।