সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট জানান, তাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিক্ষোভকারীর বুধবার ফাঁসি কার্যকরের কথা ছিল, ইরান সরকার তা স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর চাপের ফলেই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটি এত বড় ও বিস্তৃত আন্দোলনের মুখে আর কখনো পড়েনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও চরম মূল্যস্ফীতি।
দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়েল লেনদেন হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে দুর্বিষহ করে তুলেছে। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডাকলে সেখান থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে দেশটির অধিকাংশ এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, পাশাপাশি গ্রেপ্তার হয়েছেন বহু বিক্ষোভকারী।
এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান গণআন্দোলনের কারণে ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার আশঙ্কা আপাতত কমে এসেছে।