জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নিলে ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি লক্ষ্য করা যায়। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার কারণে ঢাকা-দিল্লির আস্থা কমে যায়।
তার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ভারতনির্ভরতা কমিয়ে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে আমদানি চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
এছাড়া স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানিতে ভারত থেকে কিছু পণ্যের প্রবেশ বন্ধ, সুতা ও কাঁচামাল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাকও পাওয়া যায়।
তবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ দেখাচ্ছে, গত অর্থবছরে ভারতের আমদানি ব্যয় ৭.৮৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের তুলনায় ভারতের অংশও উল্লেখযোগ্য—মোট আমদানির ১৪.১৮%। চীনের সঙ্গে ব্যবসায় ভারতের প্রভাব এখনও শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানিতে হ্রাস ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় শিল্পে সক্ষমতা বাড়ানো ও আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মনে করান, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক যোগাযোগ এখনও আছে, তাই আমদানি বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।