স্পেনের বার্সেলোনার কাছে একটি কমিউটার ট্রেন দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ট্রেনটির চালক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবাকর্মীরা।
মঙ্গলবার কাতালোনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলিদা পৌরসভায় (বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে) এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেললাইনের ওপর একটি দেয়াল ধসে পড়লে সেই ধ্বংসস্তূপে ট্রেনটি সজোরে আঘাত করে।
কাতালোনিয়া অঞ্চলের ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক ক্লাউদি গালার্দো ঘটনাস্থল থেকে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, আহত ৩৭ জনের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি বলেন, “চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।” দুর্ঘটনার পর সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাতালোনিয়ার সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, একটি রিটেইনিং ওয়াল (ধারণ দেয়াল) ধসে রেললাইনের ওপর পড়ায় যাত্রীবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিফ (ADIF) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে অঞ্চলে হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাত্র দুই দিন আগে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলে পৃথক এক ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু করেছে স্পেন।
রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে আন্দালুসিয়ার কর্দোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এডিফের তথ্যমতে, মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ২৮৯ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনের পেছনের অংশ লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ-হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ট্রেনটিতে ১৮৪ জন আরোহী ছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় ওই ট্রেনের প্রথম দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ৪ মিটার (১৩ ফুট) নিচে খাদে পড়ে যায়। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ানমা মোরেনো জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ মিটার দূরেও কিছু মরদেহ পাওয়া গেছে।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে এই দুর্ঘটনাকে “অত্যন্ত অস্বাভাবিক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি সোজা লাইনে ঘটেছে এবং কোনো ট্রেনই অতিরিক্ত গতিতে চলছিল না।
পুয়েন্তে আরও জানান, তদন্তকারীরা রেললাইনের একটি ভাঙা অংশ খুঁজে পেয়েছেন, যা দুর্ঘটনার কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এটি কারণ নাকি দুর্ঘটনার ফল—তা এখনও নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
“এই মুহূর্তে সব সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে,” স্প্যানিশ রেডিও ক্যাডেনা সের-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন পরিবহনমন্ত্রী।
এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাচা বাটলার কর্দোবা থেকে জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনাগুলো স্পেন সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। মানুষের মধ্যে ট্রেনে ভ্রমণ নিরাপদ—এই আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।