মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২১ পিএম

মতিউর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে

জাতীয়
Sub Editor
মতিউর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্য ছবি: সংগ্রহীত

ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় নরসিংদীর রায়পুরায় মহাসড়কের পাশে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠর পরিবারের সম্মতি নিয়েই এই কাজ করা হয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের সময় ভাস্কর্যটি মূল সড়কের মাঝামাঝি পড়ে যাওয়ায় উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এটি অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নেয়। তবে এটি স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হয়নি। বরং সড়ক উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার বাইরে, মহাসড়কের পাশেই আগের নকশা অনুসরণ করে আরও বড় পরিসরে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা জানান, শুক্রবার থেকেই নতুন করে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আগে যেখানে ভাস্কর্যটির আয়তন ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট, সেখানে নতুন করে এটি ২০ ফুট বাই ২০ ফুট আকারে নির্মিত হবে, যাতে দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভাস্কর্য অপসারণের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ও কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভাস্কর্য সরানোর দৃশ্য দেখা যায়, যা নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে গুজব ও অপপ্রচারের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের স্বার্থেই ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান আমাদের গর্ব, তাই তার স্মৃতিচিহ্ন আগের নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ করা উচিত।

ইউএনও মাসুদ রানা আরও বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান রায়পুরার গর্ব ও দেশের অহংকার। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিজয় দিবসহ বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তার ছবি ব্যবহৃত হয়। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, যা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে তিনি শহীদ হন। তার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি, যেখানে তার স্মৃতি সংরক্ষণে একটি জাদুঘর নির্মিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘বাংলার ঈগল’ নামে তার স্মৃতিফলকও স্থাপিত রয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে তার বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।