|
|
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

রাজধানীর লক্কর-ঝক্কর বাস আমাদের লজ্জা দেয়: কাদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০২৪, ০৯:৩০ এএম
১১ পঠিত
00:00
00:00
রাজধানীতে চলমান ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর বাস বাংলাদেশের উন্নয়ন-অর্জনকে লজ্জা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আপনারা (পরিবহন নেতা) বলছেন, লক্কর-ঝক্কর গাড়ি বাইরে থেকে সিটিতে আসে। এই সিটিতেই লক্কর-ঝক্কর গাড়ির অনেক কারখানা আছে। আমি নিজেও ভিজিট করেছি। দেখেছি রং লাগাচ্ছে। এমন রঙ, যা ১০ দিন পরে উঠে যায়। রঙ থাকে না। আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অর্জনের ও উন্নয়নের যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সেই বাংলাদেশের রাজধানীতে বাসগুলোর দিকে তাকানো যায় না। মফস্বলের গাড়ি এর থেকে অনেক ভালো। এটি আমাদের উন্নয়ন, অর্জনকে লজ্জা দেয়। এি গাড়িগুলো চলে চোখের সামনে। আমাদের দেশ এত এগিয়ে গেলো, আর আমাদের গাড়ির গরীব গরী চেহারা। রঙ দিয়ে লাভ নেই, ফিটনেস না থাকলে। এর একটি সমাধান নেতাদের কাছেই আমি চাই। এভাবে চলতে পারে না। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বনানীর বিআরটিএ'র সদর কার্যালয়ে আয়োজিত আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়ত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, অনেকদিন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। ঈদের প্রস্তুতিমূলক সভাও প্রতি বছরই আমরা করেছি। প্রস্তুতিমূলক সভায় যে সিদ্ধান্তগুলো হয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে, পরবর্তীতে এর মূল্যায়নটা আমরা করি না। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিলাম, সেটা বাস্তবে কতটা কার্যকর তা মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনা নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা চলছে৷ এর দুর্ভাবনার শেষ নেই। দুর্ঘটনার জন্য কে দায়ী এটি নিয়ে নানা বিষয় আসে। এখানে থ্রি-হুইলার, মোটর সাইকেল, বেপোরোয়া চালনাও আছে। সবকিছু মিলিয়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। আমি সচিব সাহেবকে বার বার বলেছি, মূল বিষয়গুলোতে হাত দেওয়া দরকার। পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর বিশ্বব্যাংকের কোনো প্রকল্প আমরা গ্রহণ করিনি। কিন্তু ইদানিং একটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। রোড সেইফটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামটার বাস্তবায়ন দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। এই ব্যাপারে মনোযোগী হওয়ার জন্য আমি মন্ত্রণালয়কে বারবার বলেছি। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল এখন সড়কের সবচেয়ে বড় উপদ্রপ। এই বিষয়ে একটি নীতিমারা করা দরকার। জাতীয় সড়কে আমরা মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু বাস্তবে এটি কার্যকর হচ্ছে না। আমাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়তে হবে। হাইওয়ে পুলিশের যা জনবল আছে, তা যথেষ্ট নয়। এ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি আরো বলেন, আমি যখন রাস্তা দিয়ে চলি, তখন তিন চাকার গাড়ি রাস্তায় নেই। আমি যখন রাস্তা দিয়ে যাই না, তখন অহরহ চলতে থাকে। এখানে আমরা কতটা আন্তিরকভাবে চেষ্টা করছি? আমাদের হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিআরটিএ এর সক্ষমতা যদি বাড়াতে না পারি, তাহলে আমরা যত ভালো সিদ্ধান্ত নেই, কার্যকর করা খুবই কঠিন। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। ঈদের সময় দুই জায়গা ঠিক করলে সব ঠিক হয়ে থাকবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ফেনী থেকে হানিফ ফ্লাইওভারে আসতে যে সময লাগে, তার থেকে বেশি সময় লাগে হানিফ ফ্লাইওভার পার হযে সিটিতে ঢুকতে। এখানে একটি সমস্যা আছে। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে হবে। এখন টোল বাড়ানোর জন্য এখানে কোনো কিন্তু সৃষ্টি করা হয় কিনা, সেটি ভেবে দেখা দরকার। এখানে মাঝে মাঝে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা জ্যাম থাকে। এটা দেখতে হবে আর ঢাকার গেটওয়ে গাজীপুর, চন্দ্র, নবীনগর, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড় দেখতে হবে। তিনি আরো বলেন, ঈদের আগে দুর্ঘটনা কমে, প্রাণহানীও কম হয়। কিন্তু ঈদের পর এত দুর্ঘটনা ও হতাহত থাকে যে অবাক হয়ে যাই। ঈদের পরে নজরদারি কমে যায়। নজরদারি থাকে না। এ ব্যাপারে দোষ না চাপিয়ে যার যার দায়িত্ব পালন করা উচিত। মালিকভাইরা গাড়িগুলো ঠিক ফিটনেস নিয়ে রাস্তায় বের করবেন। এ সময় ঈদেরে পূর্বে সাতদিন ও পরে পাঁচতিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো খোলা রাখার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি গার্মেন্টস ছুটির বিষয়টি দেখার সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ঈদের সময় চাঁদাবাজি ও যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি আমাদের মনিটরিংয়ে আছে। যারা এই অতিরিক্ত ভাড়া নেন, তাদেরকে কর্তৃপক্ষ যেনো ওয়ার্নিং দেন। চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না। হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এটি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত কথা বলতে হচ্ছে। সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান, আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর চেয়রম্যান ইলিয়াম কাঞ্চন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →