রোহিঙ্গা সুরক্ষায় শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, পদক্ষেপ চায় ওআইসি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুধু বিবৃতি ও প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো বন্ধ, শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিপীড়নের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আগামী ১৭ অক্টোবর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক সামনে রেখে এ আহ্বান জানিয়েছেন বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি বলেন, মুসলিম সংহতিকে নিজেদের পরিচয়ের কেন্দ্রে রাখলেও রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ওআইসি। গত কয়েক বছরে সংস্থাটি একাধিক সম্মেলন করেছে এবং বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ হয়নি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এখনো তাঁরা রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছেন। সহিংসতার পাশাপাশি সমুদ্রপথে পালানোর সময়ও তাঁদের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক গত ১৪ বছর ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও প্রকাশ করে আসছে। সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস, নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা এবং খাদ্যসংকট তৈরির অভিযোগের তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, সে বিষয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকের মতে, আদালতের রায় রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একাই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের খাদ্যসহায়তা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
রোহিঙ্গাদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অবস্থানের অসংগতিও তুলে ধরেছেন লেখক। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও কিছু দেশ নিজেদের সীমান্তে পৌঁছানো রোহিঙ্গাদের যথাযথ সুরক্ষা দেয় না।
প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নথিভুক্ত সাক্ষ্যের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অন্তত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে একটি নৌযান থেকে আন্দামান সাগরে নামতে বাধ্য করে। পরে তাঁদের সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে যেতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
লেখক মনে করেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় ওআইসিকে সদস্যদেশগুলোর বাইরেও সংঘটিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
বাগদাদে বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া ওআইসির ৫৭টি সদস্যদেশের প্রতি তাঁর আহ্বান, রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতির প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। আদালতের রায়ের পর দেশগুলো কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব মূল্যায়ন।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন