দেশে ফিরতে অটল শেখ হাসিনা, তবে তাঁকে কি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ?
আন্তর্জাতিক
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারত যাওয়ার দুই বছর পর বাংলাদেশে ফেরার সবচেয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও তিনি দেশে ফিরবেন এবং জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
ভারতের নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া অডিও বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব মামলার রায় কার্যকর করা হলেও তিনি ভয় পান না এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর দায়িত্ব বলে মনে করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানালেও দিল্লি জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের সময় ঢাকায় তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার ভারতের মাটিতে এমন কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করে।
শেখ হাসিনা তাঁর প্রত্যাবর্তনের ঘোষণাকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় পুনর্মিলনের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরলেও ২০২৪ সালের আন্দোলনের নেতারা বলছেন, জবাবদিহি নিশ্চিত না করে কোনো ধরনের পুনর্মিলনের প্রশ্নই আসে না। তাঁদের বক্তব্য, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে অবশ্যই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী শেখ হাসিনার ঘোষণায় আশাবাদী হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি মূলত দলীয় কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনার কৌশল। তাঁদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অত্যন্ত কঠিন হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, তাঁর জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান নেই। একই সঙ্গে ভারতকে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও বাস্তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন নির্ভর করবে বিচারিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন