মিরপুরের নতুন বিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা: কী কী রয়েছে এই ইলুশন মিউজিয়ামে?
মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত হাজী কুজরাত আলী মোল্লা মার্কেটের চতুর্থ তলায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘ওয়াওজা’ নামক নতুন এক চিত্তবিনোদনকেন্দ্র। সত্যি বলতে এখানেও ভিন্নতা এনেছে ওয়াওজা।
এটি নিজেকে বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলুশন ও ইমারসিভ এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হিসেবে তুলে ধরেছে। অপটিক্যাল ইলুশন বা দৃষ্টিবিভ্রমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই কেন্দ্রে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জায়গাটি বিনোদনপ্রেমীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ওয়াওজার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হৃদয় চৌধুরীর ভাষ্যমতে, এটি এমন একটি উদ্যোগ যেখানে দুই-তিন বছরের শিশু থেকে যেকোনো বয়সের মানুষ আনন্দ নিতে পারবেন। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার কথা ভেবে স্থানটিকে অপটিক্যাল ইলুশন, পারস্পেকটিভ আর্ট এবং গেমিং জোন—এই তিন ভাগে সাজানো হয়েছে। ‘এক্সপেরিয়েন্স দ্য আনরিয়েল’ স্লোগান ধারণ করে চলা এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত নতুনত্বের ছোঁয়া রাখার চেষ্টা চলছে।
বিনোদনকেন্দ্রটির অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো ‘ভর্টেক্স টানেল’। অন্ধকার একটি সুড়ঙ্গের ভেতর লাল ও নীল আলোর গোলকধাঁধায় পা রাখলে মনে হয় পায়ের নিচের মাটি নড়ছে এবং চারপাশ গোল হয়ে ঘুরছে। এছাড়া ‘শ্যাডো ড্যান্স’ সেগমেন্টে বড় স্ক্রিনে মাইকেল জ্যাকসন বা হাল্কের মতো চরিত্র বেছে নিয়ে ৩০ সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়। এই সময়ে দর্শনার্থীর নড়াচড়া হুবহু অনুকরণ করে ওই চরিত্রগুলো, যা দর্শকদের জন্য অত্যন্ত উপভোগ্য এক অভিজ্ঞতা। ধরুন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার পায়ের নিচের মাটি নিজ থেকেই সরে যাচ্ছে, মনে হতে পারে এ কী করে সম্ভব। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুবহু আরও কয়েকখানা আপনি। মনে হতেই পারে আপনি হয়তো স্বপ্ন দেখছেন, ঘুমটা বুঝি এখনই ভাঙল। মূলত দেয়ালের মতো হুবহু দেখতে একটি পোশাক আছে এই জাদুর পেছনে, সঙ্গে চোখের ধোঁকা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জীবন্ত এক শহর, আপনার সঙ্গেই যা হাঁটছে। এই মিরর মেইজে ঢুকলে শত শত আপনার মাঝে তো হারাবেনই, সেই সঙ্গে দেখতে পাবেন বিরাট এক সূর্যমুখীর বাগান।
চাঁদে হাঁটার রোমাঞ্চকর অনুভূতি পেতে দর্শনার্থীরা যেতে পারেন ‘টিল্ট রুম’-এ। ঘরটি কিছুটা বাঁকানো হওয়ায় এটি এমন এক অনুভূতি তৈরি করে, যেন আসলেই চাঁদের মাটিতে পা রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এখানে নভোচারীদের পোশাক যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, ‘অ্যামস রুম’ নামের ঘরে একই সাথে দুজন দাঁড়িয়ে দৃষ্টিভ্রমের খেলায় নিজেদের ছোট বা বিশাল আকৃতির করে তুলতে পারেন, যা ছবি তোলার জন্য দারুণ উপযোগী। এই ভেবে যখন দু কদম যাবেন, ঠিক তখনই নিজেকে আবিষ্কার করলেন চাঁদের মাটিতে। একই ঘরের দুই কোণে দাঁড়ালে একজনকে লাগবে দৈত্যের মতো বড় আর আরেকজনকে লাগবে ছোট—এমনই দৃষ্টিভ্রমের খেলা দেখায় এই অ্যামস রুম।
নিজেদের অদৃশ্য করার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় ‘ক্যামোফ্লাজ রুম’-এ, যেখানে বিশেষ পোশাক এবং আয়নার কারসাজিতে শরীর অদৃশ্য হয়ে শুধু মুখ দেখা যায়। এছাড়া ওয়ালের গায়ে আঁকা বিভিন্ন থ্রিডি এবং পারস্পেকটিভ আর্ট দর্শনার্থীদের মনে ধাঁধা সৃষ্টি করে। রয়েছে বিশেষ ‘মিরর মেইজ’ বা আয়নার গোলকধাঁধা, যেখানে শত শত নিজের প্রতিচ্ছবির পাশাপাশি কৃত্রিম সূর্যমুখী বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে তাকালে আয়নার জাদুতে আপনি পরিণত হবেন কয়েক খানায়। এই থ্রিডি, পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টসের মধ্যে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলবে রঙিন এক শহরের দৃশ্য।
কেবল ইলুশন নয়, ওয়াওজাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম। লাল-নীল ব্লকের খেলা থেকে শুরু করে নাটাই দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ভিডিও গেম—সব মিলিয়ে ইনডোর এবং আউটডোর গেমসের এক মিশ্র অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় এখানে।
ওয়াওজায় প্রবেশের জন্য জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা, সেই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রতিটি টিকিট বা পাসের বিপরীতে দর্শনার্থীরা এক ঘণ্টার স্লট পান, যেখানে ওই সময়ের মধ্যে সব ধরনের গেম ও অ্যাক্টিভিটি যতবার ইচ্ছা উপভোগ করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সুবিধাও রাখা হয়েছে। ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হলেও এতে আছে নানা ধরনের গেম ও অ্যাক্টিভিটি সেগমেন্ট, যা একে অন্য যেকোনো বিনোদনকেন্দ্র থেকে আলাদা করে তুলেছে।
প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই বিনোদনকেন্দ্র। থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশগুলোতে ভ্রমণ করে সেখানকার থ্রিডি আর্ট গ্যালারি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একদল তরুণ এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনোদন খাতে ভিন্নমাত্রা যোগ হলো। ঘোরাঘুরি কিংবা ব্যবসার কাজে কোনো দেশ ভ্রমণে গেলে প্রথমেই যে কেউ সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চান। মা–বাবা, ভাই-বোন কিংবা দম্পতি—ছবির জন্য সবার পছন্দ এই ঘর।