|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

পশ্চিমতীরে বসতিস্থাপনকারীদের চাপেবাড়ি ছাড়লেন দুইফিলিস্তিনি পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
৯ পঠিত
00:00
00:00
পশ্চিমতীরে বসতিস্থাপনকারীদের চাপেবাড়ি ছাড়লেন দুইফিলিস্তিনি পরিবার
কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখার পর কুসরা এলাকায় প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।/ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামের দুটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এর একদিন আগেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের শীর্ষ কমান্ডার ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকায় গিয়ে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংস অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে কুসরায় আরও আটটি ফিলিস্তিনি বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলি সেনারা। গ্রামের মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদিকে তারা জানায়, বসতিস্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য কয়েক দিনব্যাপী সামরিক অভিযান চালানো হবে এবং এ কারণে বাড়িগুলো প্রয়োজন। পরে ছয়টি বাড়ি থেকে সেনারা সরে যায়। তবে বসতিস্থাপনকারীদের কয়েকজন এখনো গ্রামে ঘোরাফেরা করছে।

গত রোববার থেকে কুসরার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ শুরু হয়। ওইদিন ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ও সেনারা গ্রামের প্রান্তে তিনটি বাড়ির প্রবেশপথ আটকে একটি তাঁবু স্থাপন করে। তারা বাড়িগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমনকি অসুস্থ এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের কমান্ডার মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ বুধবার কুসরা পরিদর্শনে যান। তিনি অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গ্রাম থেকে বসতিস্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরে ব্লুথের নেতৃত্বাধীন সেনারা তাঁবুটি সরিয়ে দিলেও বসতিস্থাপনকারীদের সেখান থেকে সরাতে পারেনি। তাদের বিছানা ও অন্যান্য সরঞ্জামও সেখানে পড়ে ছিল। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের কৌশল ব্যবহার করে বসতিস্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সেনারা সরে যায়। বৃহস্পতিবারও অবরোধ পঞ্চম দিনে গড়ায়।

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের একজন কুসাই রিদি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সেনারা এসে তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বলে। এলাকায় তিন দিনব্যাপী সামরিক অভিযান চলবে বলে জানানো হয়। তারা বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে সেনারা সবাইকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

পরে বিকেলে রিদিকে নিজের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ইসরায়েলি সেনারা তার নিরাপত্তা ক্যামেরার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং কিছু সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। তার প্রতিবেশী ইউসুফ হাসানের বাড়িতে তখনও সেনারা অবস্থান করছিল।

রিদি বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের সেনারা সত্যিই সরিয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে তিনি ভয় ও অনাস্থার মধ্যে আছেন। তবে তিনি আশা করছেন, সেনারা তাদের সরিয়ে দেবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সকালে দখলে নেওয়া ছয়টি বাড়ি থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যায়। বাড়িতে ফিরে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়। তারা একটি কোরআনের ছেঁড়া পৃষ্ঠা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী দেখতে পায়।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট কুসরার অবরোধকে ‘পরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত জাতিগত নিধনের চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং ইসরায়েল সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা সংঘটিত হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুসরার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ না করার নির্দেশ সেনাদের দেওয়া হয়েছে। অবরুদ্ধ বাড়িগুলোর ভেতরেও সেনারা অভিযান চালাবে না বলে দাবি করেছে তারা। তবে কেন ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ আইয়াল জামির পশ্চিম তীরে সেনা জোরদার করতে ছুটিতে থাকা এক ব্যাটালিয়ন পদাতিক রিজার্ভ সেনাকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সমালোচকেরা বলছেন, কুসরায় সেনাবাহিনীর ব্যর্থতার কারণ সেনাসংকট নয়, বরং বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছার অভাব।

কুসরার পাশের জালুদ গ্রামেও জুলাই মাসে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ওই বাড়ির বারান্দায় ইসরায়েলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের একসঙ্গে ফুটবল খেলতে দেখা যায়।

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অধিকার সংগঠন বি’তসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েল ৬৪টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করেছে। আরও ১৫টি সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং ৪ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ নিজেদের বাড়ি হারিয়েছেন। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →