|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে মার্কিন চাপ, রুখে দাঁড়াল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
১১ পঠিত
00:00
00:00
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে মার্কিন চাপ, রুখে দাঁড়াল চীন
ইরানের মোট তেল রপ্তানির আনুমানিক ৮০ শতাংশই কিনে থাকে চীন।ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন হুমকির তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, এ ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা অবৈধ। নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই চীন ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা হয়ে আসছে। এতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধা দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, চীন বহুবার অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে এবং নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ইরানের তেল রপ্তানির আনুমানিক ৮০ শতাংশই কিনে থাকে চীন। তেহরানের রাজস্ব প্রবাহ সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও চীন সেগুলো উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।

সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তবে তালিকায় কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। ইরানের তেল বাণিজ্যে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টতা থাকলেও তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে—যা চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন তাৎক্ষণিকভাবে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, ‘আমি কেন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চাইব?’

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে চীনের পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকি সম্পর্কে ওয়াশিংটন সচেতন। নিষেধাজ্ঞার জবাবে চীন আর্থিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।

এদিকে ইরানের অর্থনীতি যুদ্ধ ও মার্কিন অবরোধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা এখন আর শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; শত্রুদের আক্রমণের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির মুখে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সোমবার সরু এই জলপথ দিয়ে মাত্র দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে পার হতে পেরেছে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে যে অভিযান শুরু করেছে, তাতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা রাষ্ট্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত রয়েছে। বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়সীমা দেওয়া হবে। সময়সীমার মধ্যে সম্পর্ক না কাটলে তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের হয়ে অর্থপাচারে সহায়তাকারী যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষায়, হরমুজ প্রণালি বা ইরানের আশপাশে প্রয়োজন হলে সামরিক হামলার পথ বন্ধ করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার তুরস্ক এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধে সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও তা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে কোনো সমঝোতা এনে দেবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →