|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

বন্যায় শত শত মৃত্যু, মরদেহ সংরক্ষণে বিপাকে নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
১২ পঠিত
00:00
00:00
বন্যায় শত শত মৃত্যু, মরদেহ সংরক্ষণে বিপাকে নেপাল
সংবাদ সম্মেলনে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, বন্যার পানিতে কিছু এলাকা জলাভূমির মতো হয়ে গেছে। ছবি/ বিবিসি

বন্যায় নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজারের ব্যবস্থা করতে বিদেশি সহায়তা চেয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে শিসির খানাল জানান, নদীর ভাটির দিকে ‘শত শত মরদেহ’ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহগুলো পানিতে থাকায় দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ দীর্ঘ সময় মরদেহ হিমায়িত অবস্থায় রাখার মতো জায়গা নেপালে ‘খুবই সীমিত’ বলেও জানান তিনি।

মরদেহগুলো সংরক্ষণের উপায় খুঁজে বের করতে বিদেশি সরকারগুলোর কাছ থেকে সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শত শত মৃত্যুর পর মরদেহ দাফনে চ্যালেঞ্জে নেপাল

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় দাফন শুরু হয়েছে। উদ্ধার করা বিপুলসংখ্যক মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি নিউজ নেপালি।

নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, পচন ও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় মরদেহগুলোকে সম্মানজনক, নিরাপদ ও আইনসম্মতভাবে দাফনের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক মরদেহ দাফন করা প্রয়োজন। তবে একই কবরে একাধিক মরদেহ দাফন করা হচ্ছে না; প্রতিটি মরদেহ আলাদা কবরে এবং যথাযথ শনাক্তকরণের পর দাফন করা হচ্ছে।

এর আগে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছিল, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক মরদেহ সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং শনাক্তকরণে সহায়ক বিভিন্ন চিহ্ন নথিভুক্ত করা হচ্ছে। দাফনের স্থানসহ প্রয়োজনীয় তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

মুখপাত্র বলেন, মরদেহগুলো সরকারি, কমিউনিটি বা বনাঞ্চলের এলাকায় পরিকল্পিতভাবে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে স্বজনরা খোঁজ করতে এলে মরদেহ ও দেহাবশেষ তাদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

নেপাল সরকারের হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করা এবং ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে যুক্ত থাকা বিশেষজ্ঞ দামোদর অধিকারী বলেন, মরদেহ এমনভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে স্বজনরা তা শনাক্ত করতে পারেন এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেন।

ড্রোন উড়ানোয় ঝুঁকিতে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার

বন্যাকবলিত এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া ড্রোন পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ‘গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকির’ মুখে পড়ছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বজনদের কাছে ফিরছেন তীর্থযাত্রীরা, চলছে উদ্ধারকাজ

দুর্যোগের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় গিয়ে আটকে পড়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন।

দুর্যোগের সময় নুওয়াকোট জেলার দেবীঘাটে একটি সেতুও ধ্বংস হয়েছে। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে টানেলে ছিদ্র করা হচ্ছে

নেপালের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে টানেলের ভেতর পৌঁছাতে একটি ছিদ্র করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ।

তিনি এটিকে ‘আংশিক সফলতা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তৈরি করা ছিদ্র দিয়ে অক্সিজেনও সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, সামান্য অগ্রগতিও তাদের জন্য বড় আশার বিষয়। টানেলের ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় যতক্ষণ সম্ভব উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

এলাকার বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও গত দুই দিন ধরে ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮২ জন উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি টানা কাজ করছেন।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ত্রিশূলী-৩ ‘বি’ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রেও উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে চীন থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →