আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ায় আটকা ১ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটে। পাশাপাশি দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও ব্যাহত হয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পুরওয়াগান্ধি জানান, পরীক্ষায় আগ্নেয়গিরির ছাই পশ্চিম জাভার দিকে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়ার পর আরও কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তিনি বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব যাত্রীর সামনে ফ্লাইট রয়েছে, তাদের সময়মতো তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি না হয়।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাই জাভার পূর্ব দিকে প্রায় ২০ হাজার ফুট (৬ হাজার মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত এবং আগ্নেয়গিরির পশ্চিম দিকে সুমাত্রার ওপর প্রায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে কোনো সুনামি সতর্কতা জড়িত নেই বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আগ্নেয়গিরিটি জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত।
আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার এবং মুখে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগ্নেয়গিরির ছাই শ্বাসতন্ত্র, চোখ ও ত্বকের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কমপাস জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগ ওঠার পর শনিবার কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করে। একই কারণে কয়েকজন জেলেও সমুদ্রে মাছ ধরার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
আলদি চান্দ্রা প্রিয়োগি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই তার চোখে অস্বস্তি হচ্ছিল। তার ভাষায়, মনে হচ্ছিল চোখের মধ্যে ছোট ছোট বালুকণা ঢুকে গেছে। অস্বস্তি কমাতে তাকে চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ছাইয়ের আস্তরণ এতটাই ঘন যে প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর তাকে বাড়ির সামনের উঠান ঝাড়ু দিতে হচ্ছে।
‘আনাক ক্রাকাতাউ’ অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। গত শতাব্দীর শুরুতে ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তৈরি হওয়া বিশাল গহ্বর থেকে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠার পর থেকেই আগ্নেয়গিরিটি মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে আসছে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী সুনামিতে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া সুমাত্রা ও জাভার কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হন।
বিজ্ঞানীরা পরে দেখতে পান, আগ্নেয়গিরির ধসের সময় সেখান থেকে সরে যাওয়া কিছু পাথরের খণ্ডের উচ্চতা ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মিটার।
আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর বিশাল একটি বলয়কে ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ বলা হয়। প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে থাকা এই অঞ্চলটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত।
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প এই অঞ্চলের আশপাশে ঘটে। পৃথিবীর সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশও এই বলয়ের মধ্যে অবস্থিত। সংখ্যায় এটি প্রায় ৪৫২টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন