|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে চীনা কর্মী ও নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
২২ পঠিত
00:00
00:00
বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে চীনা কর্মী ও নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার
নেপালের রাসুয়া জেলায় ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযানের সময় চীনা এক নাগরিককে উদ্ধার করছেন সেনাসদস্যরা। ছবি: আল জাজিরা

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক চীনা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী ও এক নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে পার্বত্য জেলা রাসুয়ায় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পানিতে ডুবে থাকা টানেলের ২২৫ মিটার ভেতর থেকে চীনা নাগরিক লু হাইতাওকে উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী নুওয়াকোট জেলায় ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬৪ বছর বয়সী চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ে একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর ও বরফ নিচের দিকে নেমে আসার পর তারা দুজনই আটকা পড়েছিলেন।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়। গত কয়েক দিনে এ নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। এতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন টানেলে এখনও আটকে থাকা অন্যদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে।

চীনা নাগরিক লুকে নেপালি সেনাবাহিনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল উদ্ধার করে। সামান্য শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে হেলিকপ্টারে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে লু জানান, টানেলের ভেতর উদ্ধারকারীদের টর্চের আলো দেখতে পেলেই তিনি চিৎকার করে নিজের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু বারবারই তার আওয়াজ উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। অবশেষে আলো তার ওপর পড়লে তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

রাসুয়া জেলা থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক টনি চেং জানান, শনিবার বৃষ্টির কারণে সেখানে উদ্ধার অভিযান কিছুটা ধীর হয়ে গেলেও উদ্ধারকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, পানিতে ডুবে থাকা নিজের বাড়ির ভেতর কাদায় ঢাকা অবস্থায় চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীরা প্রথমে তাকে পানি পান করান। পরে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়।

এর একদিন আগে কাছের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুই নেপালি কর্মীকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে তারাই ছিলেন প্রথম জীবিত উদ্ধার হওয়া কর্মী।

মৃতের সংখ্যা ১,৩৩১, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক।

এদিকে সীমান্তের ওপারে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে ৫৩১ জন এখনও নিখোঁজ।

শুধু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রায় ৯০০ কর্মীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যায় ধ্বংস হওয়া এক ডজন প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলের ভেতর প্রায় ৫০০ কর্মী এখনও আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নদী উপত্যকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এতে সড়ক, বাড়িঘর ও স্কুল ধ্বংস হয়েছে। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় এসব এলাকার অর্থনীতিতে জলবিদ্যুৎও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদ্ধার অভিযানে নেপালের পাশাপাশি ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল যোগ দিয়েছে। এ সপ্তাহে নেপালের অনুরোধে ১৫ সদস্যের একটি অস্ট্রেলীয় ড্রোন ইউনিটও অভিযানে যুক্ত হয়েছে।

নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন, টানেলের আরও ভেতরে অন্য কর্মীরাও জীবিত থাকতে পারেন। এরপর ওই এলাকায় তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে।

নেপালের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনা জানিয়েছেন, আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আশাবাদী। তিনি বলেন, আরও মানুষকে উদ্ধার করার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →