|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

দীর্ঘ উত্তেজনার পর ইউএইর সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত আলজেরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
১২ পঠিত
00:00
00:00
দীর্ঘ উত্তেজনার পর ইউএইর সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত আলজেরিয়ার
আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের।ছবি: মিডল ইস্ট আই

আলজেরিয়া বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

এক বিবৃতিতে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইউএইর ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে দেশটিকে সতর্ক করা হয়েছিল। পাশাপাশি ‘আমিরাতি পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তাদের দুঃখজনক ও অযৌক্তিক আচরণের সম্ভাব্য গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করতে’ আলজেরিয়া ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এতগুলো সতর্কবার্তার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যে এসব কর্মকাণ্ডকে আর গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না এবং এর কোনো জবাব না দিয়েও থাকা সম্ভব নয়।”

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউএইর রাষ্ট্রদূতকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এবং তা কার্যকর করতে তাকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউএইর ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতামূলক ভূমিকার কারণে এ উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

২০২৩ সালে আলজেরিয়ার সংবাদপত্র ‘লে সোয়ার দ্য আলজেরি’ ইউএইকে ‘অগ্নিসংযোগকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করে এবং আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দেশটির ‘ক্ষতিকর ভূমিকার’ নিন্দা জানায়।

আলজেরিয়ার জন্য ইউএইর হুমকি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাহেল অঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে কর্তৃত্ববাদী নেতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করেছে ইউএই।

লিবিয়ায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের সামরিক নেতা খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিয়ে আসছে ইউএই। এর ফলে শুধু লিবিয়াই নয়, প্রতিবেশী চাদ, সুদান ও নাইজারও অস্থিতিশীল হয়েছে।

সুদানের গৃহযুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মিলিশিয়াকে সমর্থন দিতেও ইউএই লিবিয়াকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন এমন এক মন্তব্য করেন, যা ব্যাপকভাবে ইউএইকে উদ্দেশ করে করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। তিনি বলেন, “যেখানেই সংঘাত, সেখানেই এই রাষ্ট্রের (আমিরাতের) অর্থ রয়েছে—মালি, লিবিয়া ও সুদানে।”

তেবুন নাম উল্লেখ না করে ইউএইকে অবজ্ঞাসূচকভাবে ‘বামন রাষ্ট্র’ বলেও অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এর নাম বলব না। তারা এমন সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিল, যেখানে আমরা বড় শক্তিগুলোকে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রেখেছি।”

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ‘মিডল ইস্ট আই’কে বলেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরেই আসছিল। আমার মতে, সম্পর্ক ছিন্ন করার চেয়ে এর তাৎপর্য হলো—আলজেরিয়া এখন ইউএইকে কীভাবে দেখছে, এই সিদ্ধান্ত সেটিই প্রকাশ করে।”

তিনি বলেন, “আলজিয়ার্স কার্যত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, আবুধাবির আঞ্চলিক কৌশল—লিবিয়ায় হাফতার থেকে সুদানে আরএসএফ এবং ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দোলন পর্যন্ত, যাকে আমি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অক্ষ’ বলি—এখন আলজেরিয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে।”

চলতি বছরের বেশিরভাগ সময়জুড়েই আলজেরিয়া ইউএইর প্রতি নিজেদের অসন্তোষের কথা বিভিন্নভাবে জানিয়ে আসছে।

৭ ফেব্রুয়ারি আলজেরিয়া ইউএইর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে। আলজিয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ না জানালেও অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, আলজেরিয়ার প্রতিবেশী অঞ্চলে ইউএইর চলমান হস্তক্ষেপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ক্রিগ বলেন, “সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, কাবাইলি স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন ‘এমএকে’র সঙ্গে আমিরাতের যোগাযোগ। আলজিয়ার্স এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং এটিকে জাতীয় ঐক্যের জন্য সরাসরি হুমকি ও লাল রেখা হিসেবে দেখে।”

চলতি বছরের শুরুতে ইউএই যখন ওপেক থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন তেবুন প্রকাশ্যে ওই সিদ্ধান্তকে ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দেন।

তেবুন বলেন, ওপেকের প্রধান ভিত্তি সৌদি আরব। ইউএইর প্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, “বই বন্ধ হয়ে গেছে।”

ক্রিগ বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির ভাষাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বলা হয়েছে, সম্পর্ক রক্ষার জন্য ‘সব উপায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এটি ইচ্ছাকৃত। অর্থাৎ, এটি কোনো একটি ঘটনা নয়; বরং ধারাবাহিকভাবে জমে ওঠা নানা বিষয়ের ফল।”

তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউএইর কথিত যোগাযোগ, লিবিয়া ও সাহেল অঞ্চলে দেশটির সামরিক উপস্থিতি এবং পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কোর প্রতি আবুধাবির সমর্থন। আলজেরিয়ার কাছে পশ্চিম সাহারা ইস্যুটি সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়।

ক্রিগ আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট তেবুন প্রায় এক বছর ধরে এমন একটি ‘ছোট রাষ্ট্রের’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন, যে রাষ্ট্রটি সমস্যা তৈরি করতে চাইছে। আজ তিনি শুধু আর সেটিকে বেনামি রাখার ভান করছেন না।” 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →