|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

মধ্যপ্রাচ্যে সংযমের আহ্বান ব্রিকসের, বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার তাগি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
২২ পঠিত
00:00
00:00
মধ্যপ্রাচ্যে সংযমের আহ্বান ব্রিকসের, বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার তাগি
২০ বছর পূর্তিতে ব্রিকস, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বিভাজন-ছবি: আল জাজিরা

ব্রিকস জোটের দেশগুলো সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানির নির্বিঘ্ন প্রবাহ বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের এই সম্মেলনে আয়োজকের ভূমিকা পালন করছেন। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্য নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

১১ সদস্যের এই জোটের সভাপতিত্ব এমন এক কঠিন সময়ে নয়াদিল্লির হাতে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধ জ্বালানি ও নৌপরিবহনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। একই সঙ্গে শুল্কের চাপ বাড়ছে এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে।

শনিবারের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বেসামরিক অবকাঠামো ও বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের বিষয়ে জোটের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং সেখানকার ভৌগোলিক ও জনমিতিক কাঠামো পরিবর্তনের ‘দৃঢ় বিরোধিতা’ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধ, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে (UNRWA) সমর্থন এবং ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিরোধিতাও এই বিস্তৃত ঘোষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।

শনিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। সাত বছর পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। দুই এশীয় দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

শি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্বের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সেখানকার যুদ্ধ ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি বয়ে এনেছে।

শি বলেন, এই যুদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের জন্য সহায়ক নয়’।

এর আগে শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হন। একই দিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদি। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং জাহাজের ক্রুদের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা, মিসরের আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইথিওপিয়ার আবি আহমেদ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রাবোও সুবিয়ান্তোও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি হিসেবে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অংশ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

ব্রিকস—যার নাম ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নামের আদ্যক্ষর থেকে এসেছে—২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ব্রিক নামে চারটি দেশ পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি গড়ে তোলে। পরে এতে আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ভারতের এই সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন।

একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ‘আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি প্রবাহ ও সরবরাহব্যবস্থায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্পষ্ট করে তুলেছে।

মতপার্থক্য

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই দেশই ব্রিকসের সদস্য। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধে তারা বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।

গত বছরের সম্মেলনে জোটটি ইরানের নেতৃত্ব ও পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে ১২ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা দিয়েছিল। তবে চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত নিয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়।

ব্রিকসের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এমন শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছেন, যেগুলো বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়মের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্রিকসের কয়েকটি সদস্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকসকে ‘আমেরিকাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদক উমে-কুলসুম শরিফ সম্মেলনস্থল থেকে বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে ভারতকে। তবে জোটটির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—সম্প্রসারিত সদস্যপদের মাধ্যমে ব্রিকস গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে আরও বেশি ক্ষমতাশালী করতে পারে কি না। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →