দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাগদাদ, ২৯ সেপ্টেম্বর—ইরাকে থাকা শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবারের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। দুই দশকের বেশি সময়ের যুদ্ধের পর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়কে ইরান ও দেশটির মিত্ররা নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে।
২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন অবস্থান করে তারা বিদ্রোহ দমন ও নতুন সরকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। ২০১১ সালের শেষে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ে।
তবে ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর আবারও মার্কিন বাহিনী ইরাকে ফিরে আসে। ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা করে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয় তারা। প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা দুই দশকের বেশি সময়ের এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরানে ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শূন্যতা তৈরি হলে ইসলামিক স্টেটও পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, বিদেশি সেনা ছাড়া ইরাকের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে, কিছু ইরাকি কর্মকর্তা মনে করছেন, দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তা ছাড়া পরিচালনার জন্য প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন ও সামরিক সহায়তার ঘাটতি ইসলামিক স্টেটের মতো গোষ্ঠীগুলোকে সুযোগ দিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামিক স্টেটের সুপ্ত সেলগুলোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতির একটি পরিকল্পনা শনাক্ত করার কথাও জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, চলতি বছরের ইরানবিরোধী যুদ্ধে ইরাকে নিহত হয়েছেন ১৮ জন মার্কিন সেনার মধ্যে সাতজন। সর্বশেষ জুলাইয়ে এরবিলের কাছে একটি ঘাঁটিতে ড্রোন নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় এক মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন।
ইরাক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশের সঙ্গেই রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন