ছুটির দিনেও কাজ, চীনে ক্ষোভ বাড়ছে শ্রমিকদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনে অক্টোবরের শুরুতে জাতীয় দিবসের টানা ছুটি সামনে রেখে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ছুটির আগে ও পরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন অনেকে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, তুলনামূলক কম বেতন এবং দুর্বল শ্রমিক সুরক্ষার পাশাপাশি ছুটির সময়েও অতিরিক্ত কাজের চাপ তাদের ওপর বাড়ছে। এবার এর প্রতিবাদে নিয়োগদাতাদের পণ্য ও সেবা বর্জনের ডাকও দেখা যাচ্ছে।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে ‘ছুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজের বিরুদ্ধে আওয়াজ উপেক্ষা করা যাবে না’—এমন একটি আলোচনায় কয়েক কোটি ভিউ হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মন্তব্য এসেছে।
পর্যটন খাতে কর্মরত ২৭ বছর বয়সী এক কর্মী জানান, তিনি ছুটিতে ভ্রমণ করবেন না, খাবার ডেলিভারি নেবেন না এবং ট্যাক্সিও ব্যবহার করবেন না। তার ভাষ্য, কর্মীদের স্বাভাবিক সাপ্তাহিক ছুটি কেড়ে নিয়ে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছুটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অর্থনীতিতে রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূল্য ও ব্যয় কমানোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এতে মজুরি বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত সময় কাজের চাপও তৈরি হচ্ছে।
শ্রমিকদের অসন্তোষ যে শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, তারও কিছু পরিসংখ্যান রয়েছে। চীনের সুপ্রিম পিপলস কোর্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ৪৮ হাজার শ্রম বিরোধ আদালতে গ্রহণ করা হয়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
ভোক্তা বর্জনের নতুন কৌশল
শ্রমিক অধিকার নিয়ে অসন্তোষ থেকে চীনে ভোক্তা হিসেবে নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে উইচ্যাটে ‘উইকএন্ড অফ শপিং’ নামে একটি অ্যাপ চালু হয়েছিল। এতে কোন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের পূর্ণ দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি দেয়, তা যাচাই ও রেটিং করার সুযোগ ছিল। ব্যবহারকারীদের সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা এবং অন্যদের এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করা হতো।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে অ্যাপটি স্থগিত করা হয়। এর আগে এতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অবদান রেখেছিলেন। পরে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অ্যাপের নাম খুঁজলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চায়না ডিজিটাল টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা শিয়াও চিয়াংয়ের মতে, অ্যাপটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে কর্তৃপক্ষ এটিকে নতুন ধরনের অনলাইনভিত্তিক প্রতিরোধ ও সামাজিক সংগঠনের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে দেখেছিল।
কিছু প্রতিষ্ঠানের অবস্থান পরিবর্তন
অন্যদিকে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের পূর্ণ দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়ার বিষয়টি প্রচারে ব্যবহার করছে। চিনি পরিশোধন কারখানা, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁসহ কিছু কোম্পানি নিজেদের ‘দুই দিনের ছুটি দেওয়া নিয়োগদাতা’ হিসেবে তুলে ধরছে, যাতে ক্রেতাদের সমর্থন পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী শ্রম অধিকার ও সুরক্ষার দাবি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ভোক্তা হিসেবে মানুষের সিদ্ধান্ত এবং নাগরিক হিসেবে তাদের অবস্থানের মধ্যে টানাপোড়েন ভবিষ্যতে চীনা সরকারের জন্য আরও জটিল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন