পাইলট ছুরিকাহত, দুবাই-তেল আবিব ফ্লাইট সৌদি আরবে অবতরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে মাঝ আকাশে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনার পর ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।
বুধবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ফ্লাইট FZ1073। এতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলি বলে জানা গেছে।
উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা কমাতে শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুই মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়।
এর কিছুক্ষণ পর উড়োজাহাজটি জরুরি সংকেত পাঠায়। প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ৭৭০০ এবং পরে ছিনতাই-সংক্রান্ত ৭৫০০ সংকেত দেওয়া হয়। এরপর তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পরিবর্তে ফ্লাইটটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের কথা বলা হলেও পরে ইসরায়েলি কয়েকটি সম্প্রচারমাধ্যম দাবি করে, একজন পাইলট অপরজনকে ছুরিকাঘাত করেন এবং পরে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রীও উড়োজাহাজের ককপিটে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে এসব যাত্রীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাবুক বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তাদের কীভাবে আঘাত লেগেছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত জানায়নি।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন এবং তাদের হিসাব নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কাজ করছে বলেও জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
যাত্রীরা যা বলছেন
বিমানটির কয়েকজন যাত্রী ও তাদের স্বজন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ককপিটে ছুরিকাঘাতের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক যাত্রীর স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুরি হাতে এক ব্যক্তি একজন পাইলটকে মেঝেতে ফেলে দেন এবং সেখানে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
আরেক যাত্রী জানান, বিমান দ্রুত নিচে নামতে শুরু করলে যাত্রীরা বুঝতে পারেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। তবে এসব বক্তব্যের কোনোটি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এক যাত্রী আরও দাবি করেন, সামনের দিকের যাত্রীরা হামলাকারীকে ককপিট থেকে বের করে দেন। পরে পেছনের দিকের দুই পাইলট উড়োজাহাজটি অবতরণে সহায়তা করেন বলে তিনি জানান।
সৌদি আরবে অবতরণ
ফ্লাইটটি কিছু সময় জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর আবার সৌদি আরবের দিকে ফিরে আসে। পরে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটের দিকে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনার পর ইসরায়েল ও সৌদি আরব উভয় দেশই যুদ্ধবিমান পাঠায় বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠক করেন এবং পরে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
যাত্রীদের দুবাইয়ে ফিরিয়ে নিতে একটি উদ্ধারকারী ফ্লাইট পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে ককপিটে হামলার কারণ বা ঘটনার পেছনে কারও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন