|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

মিরপুরে সংঘর্ষের নেপথ্যে আগুন, ডিএনসিসির দাবি ‘পরিকল্পিত’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
৩২ পঠিত
00:00
00:00
মিরপুরে সংঘর্ষের নেপথ্যে আগুন, ডিএনসিসির দাবি ‘পরিকল্পিত’
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ।ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হকারদের দাবি, একটি মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় দোকানে আগুন লাগার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এ ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এ ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ইন্ধন থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটমুখী সড়কে ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচের দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এরপর সেখানে আগুন ধরে যায়।

দোকানে আগুন লাগার পর হকার ও দোকানিদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। হকারদের পক্ষ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে।

সংঘর্ষের সময় তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়ি, ভেকু ও কয়েকটি বাসও ভাঙচুর করা হয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের দোকানি শরিফুল ইসলাম জানান, ভেকু দিয়ে মার্কেটের সীমানার ভেতরে ভাঙচুরের সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে তার দোকানসহ মোট পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়।

তার ভাষ্য, আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, ‘ফ্যাসিজমের দোসররা’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।

এদিকে সংঘর্ষের পেছনে উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ করেননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

সংঘর্ষের পর ফের অভিযান

সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে দ্বিতীয় দফার অভিযান। এতে পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

এ সময় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের আশপাশের ফুটপাতের বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে অভিযান শুরুর আগেই অনেক দোকানি তাদের মালামাল সরিয়ে নেন।

পরে ঘটনাস্থলে ডিএনসিসির প্রশাসকের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন এবং কয়েকজনকে উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করতেও দেখা যায়।

ফুটপাত ফাঁকা হতেই অটোরিকশার দখল

উচ্ছেদ অভিযান শেষে সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মিরপুর সরকারি গার্লস স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সজল বলেন, আগে ফুটপাতজুড়ে এমনভাবে দোকান বসানো হতো যে যান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হতো।

তার দাবি, উচ্ছেদের পর সড়কটি আগের তুলনায় অনেক প্রশস্ত মনে হচ্ছে। তবে ফুটপাত ও সড়কের দুই পাশে অটোরিকশা দাঁড়ানোয় আবারও জায়গাটি যানবাহনের দখলে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মারুফ হোসাইনও ফুটপাত দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ করেন। তার মতে, উচ্ছেদের পর জায়গাটি অনেকটা খোলামেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা না গেলে আবারও আগের পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে।

উচ্ছেদের নামে মালামাল নেওয়ার অভিযোগ

অভিযানের সময় দোকানের মালামাল জব্দ করে পরে নিলামে বিক্রি করার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন হকার।

জুতার ব্যবসায়ী ইসমাইলের অভিযোগ, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে মিরপুরে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চলছে। তার দাবি, অভিযানের সময় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বিভিন্ন দোকানের মালামাল জব্দ করেন এবং পরে সেগুলো নিলামের মাধ্যমে আবার ব্যবসায়ীদের কাছেই বিক্রি করা হয়।

তিনি এটিকে উচ্ছেদ অভিযানের পরিবর্তে দরিদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া বলে অভিযোগ করেন।

মেয়েদের পোশাক বিক্রেতা খাদিজাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

৩০ জন আটক

সংঘর্ষের ঘটনায় ৩০ জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যারা জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনায় দুটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে একটি মামলা পুলিশের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →