|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

জাপানে স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বাড়ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
৩২ পঠিত
00:00
00:00
জাপানে স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বাড়ল
জাপানে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বেড়ে ২ লাখ ইয়েন, যুক্ত হয়েছে নতুন আয় ও ভাষার শর্ত।ছবি/ বিবিসি

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পেতে বিদেশিদের এখন আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ফি দিতে হবে। নতুন নিয়মে এ ফি বেড়ে ২ লাখ ইয়েন হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ২৭০ ডলারের সমান।

শুধু ফি বাড়ানোই নয়, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান সম্পর্কিত নতুন শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ফি কার্যকর হওয়ার আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির অভিবাসন দপ্তরগুলোর সামনে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। টোকিওর প্রধান অভিবাসন দপ্তরে অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টারও বেশি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাপানে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদেশি জনগোষ্ঠীকে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই নীতিগুলো নেওয়া হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে জুলাই মাসে বিদেশিদের ভিসা ফিও পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভিসা ফি বাড়ানোর কারণ হিসেবে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

জাপানে অভিবাসন ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত। তবে দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়তে থাকায় শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তবে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে জাপানে উদ্বেগও বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।

স্থায়ী বসবাসের ফি বাড়ানোর কয়েক দিন আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি বলেন, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের কিছু মানুষ উদ্বেগ বা বৈষম্যের অনুভূতি পেতে পারেন—সরকার বিষয়টি স্বীকার করে।

তিনি জানান, বিদেশিদের বিষয়ে নীতিগুলো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা এবং জাপানি নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দা উভয়ের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

নতুন নিয়মের আগে জাপানে অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের আবাসন মর্যাদা পরিবর্তন বা থাকার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে প্রতিবার ৬ হাজার ইয়েন ফি দিতে হতো। ১ অক্টোবর থেকে আবেদনের মেয়াদ অনুযায়ী এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস বা তার কম সময়ের জন্য ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য ৭৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল আবেদনকারী এবং শরণার্থীদের জন্য ফিতে ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের এখন জাপানের গড় আয়ের সমপরিমাণ বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। জুলাইয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাপানে গড় পারিবারিক আয় ছিল ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।

টোকিওতে ১০ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা মাইকাইয়াহ মাইকেলা-স্পেন্স নির্ধারিত ফি বাড়ার আগে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারেননি।

৩৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি এখনও আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বিদেশিদের জন্য নতুন শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, বিদেশিদের জাপানিদের তুলনায় বেশি আয় করতে বলা, বেশি ফি নেওয়া এবং একই সঙ্গে কর দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে সুবিধাজনক আচরণ বলে মনে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতিগত বাধার কারণে এমনিতেই কিছু দক্ষ ব্যক্তি জাপানে আসতে আগ্রহ হারাতে পারেন। নতুন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তার কাছে মনে হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আরও কঠোর শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের জাপানি ভাষাজ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নতুন নিয়ম সামনে আসায় জাপানি ভাষা শেখার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি এবং জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর সম্ভাব্য পেনশন সুবিধার পরিমাণও বিবেচনা করা হবে। ৩০ বছর ধরে কর্মচারী পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকা একজন ব্যক্তির সমপরিমাণ পেনশন সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা থাকতে হবে। তবে সম্ভাব্য পেনশন কম হলে আবেদনকারীর আর্থিক সম্পদের পরিমাণও বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ থাকবে। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →